লাইটিং স্কিম - Lighting Scheme

লাইটিং স্কিম - Lighting Scheme

যে কোন বৈদ্যুতিক স্থাপনা যেমন- কোন কক্ষ, ঘর-বাড়ি, কল-কারখানা, খেলার মাঠ, হােটেল, সভাকক্ষ, বন্দর, রাস্তাঘাট ইত্যাদি আলােকিতকরণের জন্য বৈদ্যুতিক আলােক ব্যবস্থার বিন্যাসকে লাইটিং স্কিম বলে। কোন স্থাপনা আলােকিতকরণে লাইটিং স্কিম খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিভিন্ন ধরনের কাজের জন্য বিভিন্ন মানের উদ্ভাসন প্রয়ােজন হয়। কোথাও কোথাও কম আলাে আবার কোথাও কোথাও অনেক বেশি মানের উদ্ভাসনের প্রয়ােজন হয়। কোন কোন ক্ষেত্রে আলােক উৎস দেখা যায়। আবার কোথাও কোথাও আলােক উৎস দৃষ্টিগােচর হয় না। বস্তু ভালভাবে দেখার জন্য প্রয়ােজনীয় মাত্রার উদ্ভাসন বস্তুর রং, বস্তুর আকার, বস্তু হতে দর্শকের দূরত্ব এবং বস্তু ও তার দৃশ্য পটভূমির বৈষম্য প্রদর্শন এর উপর নির্ভর করে। অপেক্ষাকৃত ছােট বস্তু দেখতে বেশি মাত্রার উদ্ভাসন প্রয়ােজন হয়। তাছাড়া যে। সমস্ত বস্তু নড়াচড়া করে ঐ বস্তুগুলাে দেখতে বেশি মাত্রার উদ্ভাসন প্রয়ােজন হয়। তাছাড়া ভাবগম্ভীর পরিবেশ সৃষ্টির জন্যও লাইটিং স্কিম ডিজাইন করা প্রয়ােজন। যেমন- হােটেল, রেস্তোরা, খেলার মাঠ, নাট্যমঞ্চ, সভাকক্ষ, সিনেমা হল প্রভৃতি স্থানে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের আলােক উদ্ভাসনের প্রয়ােজন হয়।

লাইটিং স্কিম - Lighting Scheme
প্রত্যক্ষ লাইটিং, পরােক্ষ লাইটিং, আধা-প্রত্যক্ষ লাইটিং এবং আধা-পরােক্ষ লাইটিং সম্বন্ধে আলােচনা (Discuss Direct Lighting, Indirect Lighting, Semi-Direct Lighting and SemiIndirect lighting): স্থাপনার ধরন অনুযায়ী লাইটিং স্কিমকে বিভিন্নভাবে শ্রেণিবিন্যাস করা যায়। যথা :
(১) প্রত্যক্ষ লাইটিং (Direct lighting)
(২) পরােক্ষ লাইটিং (Indircet lighting)।
(৩) আধা-প্রত্যক্ষ লাইটিং (Semi-Direct lighting)
(৪) আধা-পরােক্ষ লাইটিং (Semi-Indircet lighting)
(৫) সাধারণ লাইটিং (General lighting)
(৬) সম্পূরক লাইটিং (Suplimentary lighting) নিয়ে বিভিন্ন ধরনের লাইটিং স্কিম সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলােচনা করা হলাে :
(১) প্রত্যক্ষ লাইটিং (Direct Lighting) : যখন আলােক উৎস হতে আলােক রশ্মি সরাসরি কার্যকরী তলে পতিত হয় তাকে প্রত্যক্ষ লাইটিং বলে। এ পদ্ধতিতে রিফ্লেক্টর ব্যবহার করে শতকরা ৩০ ভাগেরও বেশি আলােক রশ্মিকে সরাসরি বস্তু বা কার্যকরী তলের উপর ফেলানাে হয়। প্রত্যক্ষ লাইটিং এর দক্ষতা খুব বেশি হয় কিন্তু এ পদ্ধতিতে আলাের তীবতায় চোখ ধাধায় এবং গাঢ় ছায়ার সৃষ্টি করে। কক্ষের বিভিন্ন স্থানে সঠিকভাবে বাতি লাগালে কক্ষে সঠিক ও সুষম। আলাে পাওয়া যায়। এ পদ্ধতি শিল্প কারখানা ও বহিরাঙ্গন আলােকিতকরণের জন্য বেশি ব্যবহৃত হয়।

পরােক্ষ লাইটিং (Indircet Lighting): যে পদ্ধতিতে আলােকে সরাসরি কার্যকরী তলে না ফেলে Inverted reflector বা bowl reflector এর সাহায্যে 90% এর অধিক আলােক রশ্মিকে কার্যকরী তলের পরিবর্তে ছাদে নিক্ষেপ করা হয় এবং সেখান হতে প্রতিফলিত হয়ে কার্যকরী তলে প্রতিফলিত হয় তাকে পরােক্ষ লাইটিং বলে । এ ব্যবস্থায় ছাদ রিফ্লেকটর বা পরােক্ষ আলােক উৎস হিসেবে কাজ করে বিধায় চোখ ধাধানাে আলাের তীব্রতা ন্যতম। পর্যায়ে নেমে আসে। ফলশ্রুতিতে অবাঞ্ছিত ছায়া প্রশমিত হয় এবং উদ্ভাসনের মৃদু বিকিরণে কক্ষের পরিবেশ অনেক। বেশি আরামদায়ক ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠে। সুতরাং স্পষ্টতই প্রত্যক্ষ লাইটিং অপেক্ষা পরােক্ষ লাইটিং পদ্ধতি অনেকাংশে উন্নত। যেখানে ছায়াবিহীন আলাের দরকার হয়, যেমন- ড্রইংরুম, কল-কারখানা, সিনেমা হল, থিয়েটার, হােটেল প্রভৃতি স্থানের আলােকসজ্জায় এবং বিশেষ বিশেষ ওয়ার্কসপ, বৃহদাকার মেশিনারি ও জমে থাকা অন্যান্য দ্রব্য সামগ্রীর স্তুপ যা ডাইরেক্ট লাইটিং হলে ছায়াপাত সৃষ্টি করে কাজের বিঘ্ন ঘটাত, সেখানে ইনডাইরেক্ট লাইটিং অত্যন্ত উপযােগী। (৩) আধা-প্রত্যক্ষ লাইটিং (Semi-Direct Lighting) : যে পদ্ধতিতে শতকরা 50 ভাগের কাছাকাছি আলাে সরাসরি কার্যকরী তলে এবং প্রায় শতকরা 30 ভাগ আলাে ছাদে নিক্ষেপ করা হয় তাকে আধা-প্রত্যক্ষ লাইটিং বলে । যে সকল স্থানের সিলিং এর উচ্চতা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি এবং অতি উচ্চমাত্রার উদ্ভাসন সমতা প্রয়ােজন হয় সে সকল ক্ষেত্রে। এ ধরনের লাইটিং অত্যন্ত উপযােগী। আধা-পরােক্ষ লাইটিং (Semi-Indircet Lighting) : এ পদ্ধতিতে শতকরা প্রায় 40 ভাগ আলাে সরাসরি উপরের দিকে প্রতিফলনের জন্য পাঠানাে হয় এবং প্রায় শতকরা 40 ভাগ আলাে সরাসরি কার্যকরী তলের উপর পতিত হয়। এ পদ্ধতিতে প্রতিফলন ঘটানাের জন্য প্রাস্টিকের বাটি (bowl) ব্যবহৃত হয়। পরোক্ষ লাইটিং এ যে সকল ত্রুটি বিচ্যুতি ছিল সেগুলাে আধা-পরােক্ষ লাইটিং এ দূর হয়। এ লাইটিং খুবই মৃদু ছায়াযুক্ত এবং চোখের উপর বেশি চাপ পড়ে না। অভ্যন্তরীণ আলােক সজ্জায় আধা-পরােক্ষ লাইটিং খুবই ব্যবহৃত হয়।


লাইটিং স্কিম ডিজাইনে বিবেচ্য বিষয়সমূহ (Discuss the Factors to be considered for Designing a Lighting Scheme): লাইটিং স্কিম এমন হওয়া উচিত যথা : (i) পর্যন্ত উদ্ভাসন, (ii) সমগ্র কার্যকরী তলের উপর যতদূর সম্ভব সুষম আলোেক বিন্যাস, (iii) পছন্দসহ রংয়ের আলাের সুবিধা (iv) গাঢ় ছায়া ও চোখ ঝলসানাে অতিরিক্ত উজ্জ্বলতা পরিহার করার উদ্দেশ্যে লাইটিং স্কিম ডিজাইন করা হয়। সুতরাং সামগ্রীক অর্থে লাইটিং স্কিম ডিজাইনের সময় নিম্নের বিষয়গুলাে বিবেচনা করা একান্ত আবশ্যক। (১) উদ্ভাসনের মাত্রা (Illumination Level) ; আমরা আমাদের চারপাশে যা কিছু দেখি তার মূল ভিত্তি হচ্ছে উদ্ভাসন। কোন বস্তুই দৃশ্যমান হয় না, যে পর্যন্ত না সেটি উদ্ভাসনের মাধ্যমে উজ্জ্বল লাইট সাের্সে পরিণত হয়। উদ্ভাসনের কাজই হলাে বস্তুতে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য উজ্জ্বলতা (brightening) প্রদান করা। বডি কালারের ভিন্ন ভিন্ন মাত্রার আলােক রশ্মি প্রতিফলনের গুণাগুণ রয়েছে। এদের উজ্জ্বলতায়ও রয়েছে তারতম্য। প্রতিটি কর্মক্ষেত্রেই কাজের পরিমাণ ও গুণগত বিচারে সুবিধাজনক উদ্ভাসন উজ্জ্বলতার মাত্রা বা রেঞ্জ থাকা উচিত, যাতে ন্যূনতম অবসাদে সর্বাধিক আউটপুট পাওয়া যায়। একেক বস্তু দেখার প্রয়ােজনে একেক ধরনের উদ্ভাসন মান দরকার হয়। বিভিন্ন কাজের জন্য যথােপযুক্ত মানের উদ্ভাসন মান থাকলে চোখের উপর কম চাপ পড়ে এবং কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্য পাওয়া যায়। বস্তু দেখার প্রয়ােজনীয় উজ্জ্বলতা পাওয়ার জন্য উদ্ভাসন মাত্রা নিম্নলিখিত বিষয়ের উপর নির্ভর করে। (ক) যে বস্তু দেখতে হয় তার আকার এবং দর্শক হতে বস্তুর দূরত্ব যত বেশি হয় এবং বস্তুর আকার যত ছােট হয় বস্তুটিকে স্বাচ্ছন্দে দেখতে হলে উদ্ভাসনের মান তত বেশি প্রয়ােজন হয়।

(খ) বস্তুর রং এবং বস্তুর পশ্চাৎ দিকে অবস্থিত দেয়াল বা পর্দার রং একই রকম হলে বস্তুটিকে আলাদা করে দেখতে অধিক উদ্ভাসন মানের প্রয়ােজন হয়।

(গ) কোন বস্তু দীর্ঘক্ষণ যাবৎ দেখার জন্য অল্পসময় ব্যাপী দেখা অপেক্ষা বেশি উদ্ভাসনের প্রয়ােজন হয়।

(ঘ) স্থির বস্তু অপেক্ষা চলমান বস্তু দেখার জন্য অধিকার উদ্ভাসনের প্রয়ােজন হয়।


আলোর রং (Colour of Light): কোন বস্তুর রং কেমন দেখাবে তা নির্ভর করে বস্তুর উপর পতিত আলােক রশ্মির রংয়ের উপর। সাধারণভাবে আলাের সংমিশ্রণ প্রাকৃতিক (Natural) রংয়ের হওয়া উচিত। অর্থাৎ কৃত্রিমভাবে নিক্ষিপ্ত আলাের রং দিনের আলাের রংয়ের মতাে হওয়া উচিত। বর্তমানে ফওরেসেন্ট ল্যাম্প ও এনার্জি সেভিং ল্যাম্পের কৃত্রিম আলাে অনেকাংশে দিনের স্বচ্ছ আলাের মতই দেখায় এবং এদের উদ্ভাসন সমতুল্য অন্যান্য বাতির তুলনায় অনেক বেশি হয় এবং এরা সাশ্রয়ীও বটে। বিশেষ কিছু ক্ষেত্র, যেমন- স্ট্রিট লাইটিং এ লাইটের রং ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। কেননা এক্ষেত্রে দৃশ্যমান বস্তুকে রং এর ভিন্নতা দিয়ে আলাদা করার প্রয়ােজন হয় না। এ কারণে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ডিসচার্জ ল্যাম্পের Colour distortion property থাকলেও বর্তমানে স্ট্রিট লাইটিং এ প্রায়শই উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন গ্লো

ডিসচার্জ ল্যাম্প ব্যবহার হতে দেখা যায়

ছায়া (Shadows) : আলােক স্থাপনার জমে থাকা সাজ-সরঞ্জামের দরুন সৃষ্ট বাধা ও গাঢ় ছায়া চোখের উপর চাপ সৃষ্টি করে এবং ক্লান্তির উদ্রেক করে। তবে একেবারে ছায়াহীন অবস্থাও আদর্শ অবস্থা নয়। সকলের অভিমত এই যে, কঠিন বস্তুর আকৃতি সহজে চিহ্নিত করার জন্য কৃত্রিম আলােক ব্যবস্থায় কিছুটা ছায়া কাঙ্খিত বিষয়। ছায়াহীন বস্তু দেখতে সমতল, আকর্ষণহীন, উঁচু-নিচু তলহীন, বস্তুর আকৃতি বিবেচনা করা চোখের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। সমতল কর্মক্ষেত্র, ছায়াহীন আলাে কাজ করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। গাঢ় এবং দীর্ঘ ছায়া নিম্নলিখিতভাবে দূর করা যায়(ক) অনেকগুলাে আলােকদায়ী বস্তু 2.5 মি. উচ্চতায় বসানাের মাধ্যমে এবং (খ) প্রশস্ত গ্লোব আকৃতির আলােক উৎস বিশিষ্ট লাইটিং সিস্টেম ব্যবহারের মাধ্যমে গাঢ় ও দীর্ঘ ছায়া দূর করা যায়। সিনেমা হল, থিয়েটার, হােটেল ইত্যাদি ক্ষেত্রে আরামদায়ক ও স্বপ্নিল পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য কক্ষের অভ্যন্তরীণ আলােক সজ্জায় মৃদু ছায়াযুক্ত উদ্ভাসন অত্যন্ত কার্যকর।


অসহনীয়/চোখ ধাঁধানাে আলাে (Glare): সরাসরি বা প্রতিফলনের মাধ্যমে আহনীয় বা চোখ ধাঁধানাে আলাে তৈরি হতে পারে। এটা সরাসরি আলােক উৎস হতে আগত আলােক রশ্মি বা কোন চকচকে মেশিনপত্র, কাগজ, চকচকে টেবিলটপ, নিকেলড মেশিন পার্টস কিংবা মসৃণ ক্যালেন্ডার পেপার হতে আলাের প্রতিফলনের দরুন সৃষ্টি হতে পারে । সরাসরি উৎস। হতে চোখ ঝলসানাে উজ্জ্বলতা সৃষ্টি করে এবং এটা দৃষ্টিশক্তিতে প্রায়ই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। প্রখর সূর্যরশ্মি চোখে অসবিধা সষ্টি করে। সূর্য অপেক্ষা কম উজ্জ্বল আলােক উৎস যেমন ফিলামেন্ট বা ইনক্যান্ডিসেন্ট ল্যাম্পের আলেও চোখে অসবিধা সষ্টি করে। কোন পালিশ করা চকচকে তল হতে প্রতিফলিত আলােকরশ্মি চোখে অসুবিধা সৃষ্টি করে। স্বাভাবিক উচ্চতার ক্ষেত্রে উৎসের জন্য কিছুটা টলারেন্স থাকে। শিল্পক্ষেত্রে ধাতব রিফ্রেক্টরের মাধ্যমে এ প্রতিদিত হয়ে কর্মক্ষেত্রে পতিত হয়।


(Mounting Height): বিল্ডিং এর ধরন এবং লাইটিং স্কিমের ধরনের উপর গতির মাউন্টিং প্রত্যক্ষ লাইটিং এর ক্ষেত্রে বড় রুমের মেঝের জন্য আলােক উৎসকে যতদূর সম্ভব সিলিং এর কাছাকা ""হবে। আলাের উজ্জ্বলতা কম সমতা বিশিষ্ট হলে বাতিকে ছাদ হতে দূরে বা মেঝে হতে উচ্চতা কম করা যে পারে; এভাবে কো-ইফিসিয়েন্ট অফ ইউটিলাইজেশন (U.F) বৃদ্ধি না করলে চোখ ঝলসানাে উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায় ।

ক্ষেত্রে বেশ উচচতা সম্পন্ন ছােট কক্ষের জন্য অলােক উৎসকে নিচে লাগানাে হয়ে থাকে কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেতে রিফ্রেক্টরবিহীন ফিলামেন্ট ল্যাম্প উচ্চে ব্যবহার করে এ সকল সমস্যার সমাধান করা যায়। পরােক্ষ বা আধা পরােক্ষ লাইটিং এর ক্ষেত্রে আলােক উৎস সিলিং হতে অনেক নিচে লাগানাে হয়। বাস্তবে অনুভূমিক দূরত্বের এক চতুর্থাংশ হতে এক তৃতীয়াংশ দৈর্ঘ্যে লাইট ঝুলানাে হয়। যদি এক বাতি হতে আরেক বাতির দূরত্ব কম রাখতে হয় তবে মেঝে হতে বাতির উচ্চতা কম পক্ষে 2.5 মিটার হওয়া উচিত। যদি ছাদের উচ্চতা খুব কম হয় তবে ছাদের উদ্ভাসন মান অসম হয়। এটা আপত্তিকর নয় কারণ ছাদ কোন কার্যকরী তল নয়।

পার্শ্ববর্তী বাতির ব্যবধান (Spacing of Luminaries) : সমগ্র মেঝেতে সুষম উদ্ভাসন পাওয়ার জন্য এবং প্রতিষ্ঠানে যত্রতত্র স্থাপিত সরঞ্জামের কারণে সৃষ্টি অবাঞ্চিত ছায়াকে এড়ানাের জন্য সঠিক ব্যবধানে বাতি লাগানাে একান্ত আবশ্যক। প্রত্যক্ষ ও পরােক্ষ লাইটিং স্কিম ডিজাইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য ফ্যাক্টর হলাে বাতির পারস্পরিক বাধধান ও মাউন্টিং উচ্চতার অনুপাত (Space Height Ratio)। প্রত্যক্ষ ও আধাপ্রত্যক্ষ লাইটিং এর ক্ষেত্রে, বাতির সারির অনুভূমিক দূরত্ব ও কার্যক্ষেত্রের উপর বাতির উচ্চতার অনুপাত বাতির ক্যান্ডেল পাওয়ার বিতরনের উপর নির্ভর করে। ফুওরেসেন্ট ল্যাম্পের ক্ষেত্রে এ অনুপাতের মান এক এর করার চেষ্টা করা হয় বাস্তবে এর মান হয় রিফ্লেক্টরসহ টাংস্টেন ফিলামেন্ট ল্যাম্পের ক্ষেত্রে এ অনুপাত হয় 0.6 এর কাছাকাছি।

পরােক্ষ বা আধা পরােক্ষ লাইটিং এর ক্ষেত্রে বাতির সারির মধ্যে আনুভূমিক দূরত্ব কার্যকরী তল হতে বাতির উচ্চতা প্রায় সমান হয় এবং কোন ক্ষেত্রেই আনুভূমিক দূরত্ব কার্যকরী তল হতে ছাদের উচ্চতার 1s গুণের বেশি হওয়া চলবে না। ফুওরেসেন্ট ল্যাম্পের ক্ষেত্রে বাস্তবে দুই বা ততােধিক বাতি একই তলের উদ্ভাসনের জন্য একত্রে ব্যবহার করা হয়। যখন বাতির অবিরাম সারির মাধ্যমে বিশেষভাবে উচ্চ উদ্ভাসন পেতে লাইটিং করা হয় তখন এটা করা হয়।


চতুস্পার্শ্বস্থ দেয়ালের রং (Colour of Surrounding walls) ; কোন কক্ষের উদ্ভাসন নির্ভর করে সেই কক্ষের দেয়াল ও সিলিং হতে কী পরিমাণ আলাে বিচ্ছুরিত হয় তার উপর রঙ্গিন অপেক্ষা সাদা রংয়ের দেয়াল ও সিলিং হতে অধিক আলাে বিচ্ছুরিত হয়।

উদ্ভাসন সমতা (Ballancing of Illumination): আলােকীকরণে এটি একটি অত্যন্ত প্রয়ােজনীয় উপাদান। পর্যাপ্ত সুষম উদ্ভাসন আমাদের চারপাশের জিনিসপত্রের ( মনােরম দৃশ্যের অবতারণা করে। প্রতিটি রঙিন বস্তুরই নিজস্ব বৈশিষ্ট্য আছে। আলােক প্রতিফলনের মানের উপর এই ও বৈশিষ্ট্যসমূহ নির্ভর করে। উদ্ভাসনের প্রধান লক্ষ্য হবে বস্তু হতে প্রতিফলিত আলাে যেন কোন প্রকারেই আমাদের দৃষ্টিতে ৪ অবসাদ বা ভ্রান্তি আনয়ন না করে। বস্তু ভালােভাবে দেখার জন্য প্রয়ােজনীয় উদ্ভাসন অবশ্যই বস্তুর আকার, বস্তু হতে দর্শকের দূরত্ব এবং বস্তু ও তার দৃশ্য। পটভূমির বৈষম্য প্রদর্শন বা কন্ট্রাস্ট এর উপর নির্ভর করে। বস্তু যতাে ছােট হবে এবং দূরত্ব যতাে বেশি হবে, বস্তু । প্রত্যক্ষ করতে উদ্ভাসন ততাে বেশি প্রয়ােজন হবে। অন্যদিকে কম সময়ের মধ্যে কোন কাজ করতে বেশি উদ্ভাসন। প্রয়ােজন হয়। স্থির বস্তু অপেক্ষা চলমান বস্তু প্রত্যক্ষ করতে বেশি উদ্ভাসন প্রয়ােজন হয় এবং কাজের সময় বেশি হলে । উদ্ভাসন কম প্রয়ােজন হয়। কাজেই বলা চলে কোন সময়ে কোন ধরনের বস্তু কোন অবস্থায় বা পরিস্থিতিতে প্রত্যক্ষ করা ও হবে তার ভিত্তিতে উদ্ভাসন সমতা নির্ধারণ করা হয়।

*

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post