পরিবাহীর আকার এবং বিদ্যুৎ বহন ক্ষমতা

পরিবাহীর আকার এবং বিদ্যুৎ বহন ক্ষমতা

যে কোন ধরনের স্থাপনায় বিদ্যুতায়ন করতে পরিবাহী অপরিহার্য। অভ্যন্তরীণ ওয়্যারিং এ ক্যাবল আর ওভারহেড লাইনে তার পরিবাহী হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সার্কিটে সরবরাহ ভােল্টেজ, কারেন্ট এবং সরবরাহের ধরন বা প্রকৃতির (1-ফেজ, 3-ফেজ) উপর নির্ভর করে পরিবাহী নির্বাচন করা হয়। সার্কিটে প্রবাহিত কারেন্টের মানের উপর ভিত্তি করে পরিবাহীর আকার বিভিন্ন রকম হয়। বেশি কারেন্টের জন্য মােটা তার এবং কম কারেন্টের জন্য চিকন তার প্রয়ােজন হয়। বেশি কারেন্ট প্রবাহের জন্য প্রয়ােজনের তুলনায় চিকন তার ব্যবহার করা হলে তার পুড়ে যেতে পারে আবার অল্প কারেন্ট প্রবাহের জন্য প্রয়ােজনের তুলনায় মােটা তার ব্যবহার করা হলে খরচ বেশি হয়। এ কারণে কারেন্ট প্রবাহের সাথে সামঞ্জস্য রেখে পরিবাহীর আকার নির্বাচন করা হয়। এ অধ্যায়ে পরিবাহীর আকার এবং পরিবাহীর বিদ্যুৎ বহন ক্ষমতা নিয়ে আলােচনা করা হয়েছে।

পরিবাহীর আকার এবং বিদ্যুৎ বহন ক্ষমতা

পরিবাহীর আকার নির্ণয়ে বিবেচ্য কমপক্ষে তিনটি বিষয়ের বর্ণনা: বিদ্যুতায়নে ব্যবহৃত পরিবাহীর আকার নির্বাচনে নিম্নের তিনটি বিষয় বিবেচনা করা হয় :
(i) কারেন্ট বহন ক্ষমতা (Current carrying capacity)
(ii) ভােল্টেজ ঘাটতি (Voltage drop)
(iii) ন্যূনতম অনুমােদিত পরিবাহীর আকার (Minimum permisible conductor size)
নিম্নে পরিবাহীর আকার নির্ণয়ের জন্য বিবেচ্য বিষয়গুলাের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা দেয়া হলাে : কারেন্ট বহন ক্ষমতা (Current Carrying Capacity) : বৈদ্যুতিক বর্তনীতে লােড যত বেশি হয়, বর্তনীতে সাব সার্কিটের সংখ্যা তত বেশি হয়। বৈদ্যুতিক বর্তনীতে লােড বৃদ্ধি পেলে কারেন্ট প্রবাহ বৃদ্ধি পায়, আবার লােড যত কম হয়। কারেন্ট প্রবাহ তত কম হয়। কাজেই কারেন্ট প্রবাহের পরিমাণ অনুযায়ী বৈদ্যুতিক বর্তনীকে বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত করা প্রয়ােজন। হয় । যে অংশে বেশি কারেন্ট প্রবাহিত হয় সে অংশে পরিবাহীর সাইজ বেশি হয় এবং যে অংশে কম কারেন্ট প্রবাহিত হয় সে অংশে পরিবাহীর সাইজ কম হয়। সার্কিটের প্রতি অংশের পরিবাহীর সাইজ ঐ অংশে কারেন্ট প্রবাহের সাথে সমানুপাতিক।

ভােল্টেজ ঘাটতি (Voltage drop): পরিবাহীর ভিতর দিয়ে বৈদ্যুতিক কারেন্ট প্রবাহিত হলে ঐ পরিবাহীর রােধের কারণে ভােল্টেজ ঘাটতি (Voltage drop) হয় যা V = IR দ্বারা প্রকাশ করা হয়। ভােল্টেজ ঘাটতি হলে লােডে প্রয়ােজনের তুলনায় কম ভােল্টেজ সরবরাহ হয় ফলে লােডের কর্মদক্ষতা হ্রাস পায়। তাই ভােল্টেজ ঘাটতি যত কম হয় ততই ভাল। ওহমের সূত্রের সাহায্যে ভােল্টেজ ঘাটতি নির্ণয় করা যায়। ভােল্টেজ ঘাটতি কমানাের জন্য রেজিস্টেন্স কমানাের জন্য। পরিবাহীর প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল বেশি হওয়া আবশ্যক। সাধারণত লাইটিং লােডের জন্য সরাবরাহ ভােল্টেজের 2%, মােটর সার্কিটের জন্য 2% - 3% এবং পাওয়ার লােডের জন্য সরবরাহকৃত ভােল্টেজের 5% পর্যন্ত ভােল্টেজ ঘাটতি হওয়া বাঞ্ছনীয় অনুমােদিত ন্যুনতম সাইজ (Minimum Permissible Size) : কারেন্ট প্রবাহের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে পরিবাহীর সাইজ নির্ধারণ করা হলে খুব কম কারেন্টের জন্য পরিবাহীর সাইজ অনেক কম হলে তা যান্ত্রিক পীড়ন সহ্য করতে পারে না। এ কারণে ওয়্যারিংয়ে ব্যবহৃত পরিবাহী আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবল ও ওভারহেড লাইনের পরিবাহীর ন্যূনতম সাইজ নির্ধারণ করা হয়।

পরিমাণের উপর ভিত্তি করে পরিবাহীর কারেন্ট বহন ক্ষমতার সারণি হতে ইপ্সিত তারের সাইজ নির্ণয় করতে হয়। এ সারণিতে তারের ব্যাস, ক্ষেত্রফল, কারেন্ট রেটিং এবং প্রতি ভােল্ট ভােল্টেজ ঘাটতির জন্য তারের দৈর্ঘ্য অথবা অ্যামপিয়ার মিটার ছক। আকারে দেয়া থাকে। মনে করি, কোন বর্তনীর মােট কারেন্টের পরিমাণ 10 অ্যাম্পিয়ার হিসাব করে নির্ণয় করা হলাে, সারণি হতে i০ অ্যাম্পিয়ার হিসাব করে নির্ণয় করা হলাে, সারণি হতে 10 অ্যাম্পিয়ার বরাবর নির্দিষ্ট তারের সাইজ বের করা হয়। এটা 3/0.736 মি.মি. বা 3/0.029 ইঞ্চি । উল্লেখ্য যে, এ হিসাব সাধারণত 20 মি লম্বা বা তার কাছাকাছি দৈর্ঘ্যের তারের ক্ষেত্রে প্রযােজ্য। তারের দৈর্ঘ্য বেশি বেশি হলে ভােল্টেজ ঘাটতি ন্যূনতম অনুমােদিত ভােল্টেজ ঘাটতির সমান বা তদপেক্ষা। কম নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এক সাইজ বেশি মানের তার নির্বাচন করতে হয়। তার বাহ্যিকভাবে সনাক্ত করার জন্য এস.ডব্লিউ.জি দ্বারা তারের ব্যাস বা সাইজ নির্ণয় করতে হবে। পাওয়ার বর্তনী, ওভারহেড লাইন, আন্ডারগ্রাউন্ড লাইন এবং ডিস্ট্রিবিউশন লাইনের জন্য ব্যবহৃত পরিবাহীর সাইজ সংশ্লিষ্ট সারণি হতে নির্ণয় করা যেতে পারে। 2 x 3/0.736 মি.মি ক্যাবল বুঝাতে 2 কোর, প্রতি কোরে 3টি খেই এবং প্রতি খেইয়ের ব্যাস 0.736 মি. মি. বােঝায়।

সার্কিটের মােট কারেন্ট নির্ণয়পূর্বক পূর্ব বর্ণিত নিয়মে উক্ত কারেন্ট বহনের উপযােগী তারের সাইজ নির্ণয় করা যায়। একইভাবে মেইন সার্কিটের লাইন কারেন্ট এবং তা বহনক্ষম তারের সাইজ ও নির্ণয় করা যায়। প্রত্যেক লাইটিং সাব-সাকিটের জন্য সর্বোচ্চ 10 টি পয়েন্ট এবং সর্বোচ্চ পাওয়ার 800 ওয়াট বিবেচনা করা হয়। মেইন সার্কিটের হিসাবকৃত মােট পাওয়ারকে 800 দ্বারা ভাগ করে সাব-সার্কিটের সংখ্যা নির্ণয় করতে হয়। সাধারণত প্রতি ৪০০ ওয়াট বা এর অংশ বিশেষের জন্য একটি সাব-সার্কিট বিবেচনা করা হয়। প্রতি সাব-সার্কিটের হিসাবকত পাওয়ারকে সরবরাহ ভােল্টেজ দ্বারা ভাগ করে এ সাবসার্কিটের কারেন্ট নির্ণয় করা হয়।

সাব-সার্কিটের কারেন্ট = সাব সার্কিটের পাওয়ার/ সরবরাহ ভােল্টেজ

সাব-সার্কিটের কারেন্ট নির্ণয়পূর্বক পূর্ব বর্ণিত নিয়মে উক্ত কারেন্ট বহন উপযােগী তারের সাইজ নির্ণয় করা যায়। প্রতি 5 অ্যাম্পিয়ার কারেন্টের জন্য বা তার অংশ বিশেষ পরিমাণ কারেন্টের জন্য একটি সাব-সার্কিট বিবেচনা করা হয়।

সাব-সার্কিটের সংখ্যা = সার্কিটের মােট কারেন্ট/ 5

তাছাড়া বাড়ির লাইটিং লােডের মােট পাওয়ারকে 800 দ্বারা ভাগ করে সাবসার্কিটের সংখ্যা হিসাব নির্ণয় করা হয়।

সাব-সার্কিটের সংখ্যা = সার্কিটের মােট পাওয়ার/ 800।

পাওয়ার সার্কিট (Power Circuit):

যে সার্কিটের মাধ্যমে পাওয়ার লােড পরিচালনা করা হয় তাকে পাওয়ার সার্কিট বলে পাওয়ার সার্কিট মূলত দুই প্রকার । যথা-

(i) আবাসিক পাওয়ার সার্কিট

(ii) শিল্প কারখানার পাওয়ার সার্কিট


আবাসিক পাওয়ার সার্কিট (Domestic Power Circuit) :

যে সার্কিটের মাধ্যমে বসতবাড়ি, অফিস আদালত ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাওয়ার লােড পরিচালনা করা হয় তাকে। আবাসিক পাওয়ার সার্কিট বলা হয়। আবাসিক পাওয়ার সার্কিটে বৈদ্যুতিক হিটার, ইলেকট্রিক ওভেন, ইলেকট্রিক কেটলি, কারি কুকার, রাইচ কুকার ওয়াটার। কুলার, রিফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার ইত্যাদি লােড সংযুক্ত থাকে। পাওয়ার সার্কিটের সাব-সার্কিটের হিসাব করার জন্য প্রথমে মােট পয়েন্ট হিসাব করা হয়। প্রতি 3000 ওয়াট বা 2 টি পয়েন্টের জন্য একটি সাব-সার্কিট বিবেচনা করা হয়। কারেন্ট প্রবাহের উপর ভিত্তি করে পায়েন্ট সংখ্যা বিবেচান করা হলে প্রতি 15 অ্যাম্পিয়ার বা তার ভগ্নাংশের জন্য একটি পাওয়ার সাব-সার্কিট ধরা হয়। কারেন্ট যত কমই হােক না কেন পাওয়ার সার্কিটের জন্য ব্যবহৃত তারের সর্বনিম্ন অনুমােদিত সাইজ 3/0.915 মি.মি বা 7/0.736 মি.মি বা 2.5 আরএম (rn)।

শিল্প-কারখানার পাওয়ার সার্কিট (Industrial Power Circuit) :

যে সার্কিটের মাধ্যমে শিল্প-কারখানার লােড পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করা হয় তাকে শিল্প-কারখানার পাওয়ার সার্কিট বলে । শিল্প কারখানার পাওয়ার সার্কিটে লােড হিসেবে প্রধানত মােটর, ইলেকট্রিক চুল্লী, ইত্যাদি যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়। এ সার্কিটে ভােল্টেজ অনুমােদিত ভােল্টেজ ড্রপ 5%। এতে পরিবাহীর ন্যূনতম সাইজ 3/0.915 মি.মি (তামা) এবং। 1/1.৪০ মি.মি (অ্যালুমিনিয়াম) তার ব্যবহৃত হয়। এছাড়া বিএস অনুসারে ন্যূনতম 7/0.736 মি.মি (তামা) তার। ব্যবহৃত হয়। প্রতি 3000 ওয়াট বা 2 টি পয়েন্টের জন্য 1 টি সাব-সার্কিট বিবেচনা করা হয়। পূর্ব বর্ণিত নিয়ম অনুযায়ি তারের সাইজ নির্ণয় করা যায়।

*

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post