চ্যানেল ওয়্যারিং কন্তুইট ওয়্যারিং সারফেস-কনসিন্ড ওয়্যারিং

চ্যানেল ওয়্যারিং কন্তুইট ওয়্যারিং সারফেস-কনসিন্ড ওয়্যারিং

ডিস্ট্রিবিউশন বাের্ড, ফিউজ বক্স, সুইচ বাের্ড হয়ে লােডের জন্য লাগানাে সিলিং রােজ পর্যন্ত উপযুক্ত সময়।

ক্যাবল চ্যানেলের বেজের উপর বসাতে হবে এবং পর্যায়ক্রমে প্রতি সেকশনে চ্যানেলের উপরের অংশ বা চারুকী | বেজের ঘাটে পরিয়ে দিতে হবে। এতে ক্যাবল চ্যানেলের ভিতর আটকে থাকবে।

চ্যানেল ওয়্যারিং এ সিঙ্গেল কোর পিভিসি ক্যাবল বা টু-ইন-কোর পিভিসি ক্যাবল ব্যবহার করা হয়।

চ্যানেলে ক্যাবল পরানাের সময় খেয়াল রাখতে হবে যাতে চিকন চ্যানেলে মােটা ক্যাবল পরানাে না হয়।


এক কক্ষ হতে অন্য কক্ষে লাইন নিতে হলে দেয়াল ছিদ্র করে পিভিসি পাইপের মধ্য দিয়ে নিতে হবে ।

ওয়্যারিং এর কাজ শেষ হলে পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হবে। চ্যানেলের সহজলভ্যতা, কম দাম, সহজ ওয়্যারিং পদ্ধতি, চ্যানেলের অপচনশীলতা, সৌন্দর্য ইত্যাদি কারণে বর্তমানে ব্যাপকভাবে চ্যানেল ওয়্যারিং করা হচ্ছে। 230 ভােল্ট সরবরাহের বৈদ্যুতিক স্থাপনায় চ্যানেল ওয়্যারিং করা হয়। চ্যানেল ওয়্যারিং এ ব্যবহৃত সুইচ বক্স, ফিউজ বক্স, জয়েন্ট বক্স ইত্যাদি পিভিসির তৈরি হয়ে থাকে।


চ্যানেল ওয়্যারিং এর নমুনা চ্যানেল ওয়্যারিং এর জন্য প্রয়ােজনীয় সামগ্রী চ্যানেল ওয়্যারিং এর জন্য প্রয়ােজনীয় সামগ্রীর তালিকা নিয়ে প্রদত্ত হলাে ।

(i) পিভিসি চ্যানেল (Pvc channel): বিভিন্ন সাইজের ও রংয়ের পিভিসি চ্যানেল বাজারে পাওয়া যায়। যেমন, (13 mm x 13 mm, 13 mm x 18 mm, 13 mm x 25 mm, 13 mm x 31 mm, 13 mm x 38 mm এবং 13 mm x 50 mm)। উল্লেখিত সাইজের সাদা, খয়েরি, সবুজ ইত্যাদি রংয়ের এন্ড প্লগও পাওয়া যায়।


(ii) সুইচ বাের্ড ও জাংশন বাের্ড (Switch boards and Junction boards) : পিভিসি প্লাস্টিক দ্বারা | সুইচ বাের্ড ও জাংশন বোের্ড তৈরি করা হয়। বিভিন্ন সাইজ ও রং এর প্রচলিত বাের্ডগুলাে হচ্ছে – 75mm x 75mm, 100mm x 100 mm, 100mm x 150mm, 125 mm x 200 mm, 200mm X 250 mm, 200mm x 300mm ইত্যাদি।


(iii) (Screws): বাজারে দেশী বিদেশী বিভিন্ন নম্বরের স্কু পাওয়া যায়। যেমন – 3 No, 5 No, 6 No, 7 No ইত্যাদি নম্বর অনুযায়ী গুলাে চিকন বা মােটা হয়ে থাকে।

(iv) রাওয়াল প্লগ (Rowel Plugs): বর্তমানে রাওয়াল রাগের সাহায্যে চ্যানেল ওয়্যারিং করা হয়। সাদা অথবা রঙ্গিন বিভিন্ন সাইজ যেমন, 6, 8, 10, 12 ইত্যাদি নম্বরের Plastic রাওয়াল প্লগগুলাে বাজারে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়।


চ্যানেল ওয়্যারিং এর বৈশিষ্ট্য :

(i) সহজেই আবাসিক ভবন, হােটেল ইত্যাদি ক্ষেত্রে এ ওয়্যারিং করা যায় ।

(ii) উডেন কেসিং, ক্যাপিং ও ব্যাটেন ওয়্যারিং এর তুলনায় সস্তা। তবে স্থায়ীত্ব কম।

(iii) ওয়্যারিং করতে দক্ষ টেকনিশিয়ান প্রয়ােজন হলেও ওয়্যারিং দৃষ্টি নন্দন হয়।

(iv) এ ওয়ারিং সূর্যের আলাে বা উন্মুক্ত স্থান যেখানে বৃষ্টির পানি যাবার সম্ভবনা রয়েছে সেখানে এ ওয়্যারিং করা যায় না ।

(v) শীত প্রধান দেশ বা উষ্ণ অঞ্চলে এ ধরনের ওয়্যারিং করা যায় না। (vi) এটি অ্যালকালি ও এসিডের সঙ্গে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে। ' (vii) চ্যানেলের উপর নিয়মিত পেইন্ট করতে হয় , যা ব্যয়বহুল।

(viii) কোথাও বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট হলে অগ্নিস্ফুলিঙ্গের মাধ্যমে চ্যানেলে আগুন ধরে যেতে পারে।

(ix) চ্যানেলের উপর ও ওয়্যারিং এর ভিতর ধুলাে ময়লা জমে বিধায় ঘরের ইনসুলেশন নষ্ট হয়।


চ্যানেল ওয়্যারিং এর ব্যবহার :

এ ধরনের ওয়্যারিং বাড়িঘর, অফিস-আদালত, ছাত্রাবাস, আবাসিক বা অনাবাসিক ভবন ইত্যাদিতে করা যায়। ২। কভূইট ওয়্যারিং (Conduit wirng) : পিভিসি গ্যালভানাইজড আয়রন বা ইস্পাতের পাইপ বা কভুইটের ভিতর দিয়ে ক্যাবল টেনে যে ওয়্যারিং করা হয় তাকে কভুইট ওয়্যারিং বলে । মধ্যম ভােল্টেজ (Medium voltage 400 Volt) এর সকল বৈদ্যুতিক স্থাপনায় যেমন – ওয়ার্কশপ, কলকারখানা, জনসাধারণের সম্মেলন স্থলে, (অডিটোরিয়াম, সিনেমা হল ইত্যাদি) এ ধরনের ওয়্যারিং করা বাধ্যতামূলক। এ ছাড়া সৌন্দর্য ও নিরাপত্তাজনিত কারণে ঘরবাড়িতেও ব্যাপকভাবে কভুইট ওয়্যারিং সমাদরের সাথে ব্যবহৃত হয়। নিম্নলিখিত সুবিধার কারণে কভুইট ওয়্যারিং বহুলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে –


১। এটা দীর্ঘস্থায়ী।

২। তুলনামূলকভাবে অধিকতর নিরাপদ।

৩। আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে ক্যাবল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কম ।

৪। আগুন লাগার সম্ভাবনা কম।

৫। রক্ষণাবেক্ষণের ঝামেলা নেই।

৬। কভুইটের ভিতরে ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে শুধুমাত্র ঐ ক্যাবলটুকুর পরিবর্তে নতুন ক্যাবল লাগানাে সহজ।

৭। ঘরের সৌন্দর্য নষ্ট হয় না।


কন্তুইট ওয়্যারিং এ নিম্নলিখিত ফিটিংস ব্যবহার করা হয়।

(i) কাপলিং

(ii) নিপুল

(iii) সার্কুলার ক্যুইট বক্স।

(vi) ক্লিপ

(v) রিডিউসার

(vi) ইনসপেকশন টি

(vii) ইনসপেকশন বক্স

(viii) স্পেনবার স্যাডেল

(xi) লক নাট

(x) রিং বুশ ।

(d) স্ট্রাপ স্যাডেল

(ii) লক রিং

(viii) স্টপিং প্লগ

(iv) অ্যাডাপটেবল কভুইট বক্স , অবলং কভুইট বক্স, জিআই ৰা নমনীয় কভুইট পাইপ।


কভুইট ওয়্যারিং দুই প্রকার : যথা

(ক) সারফেস কভুইট ওয়্যারিং (Surface conduit wiring)।

(খ) কনসিন্ড কভুইট ওয়্যারিং (Concealed conduit wiring)।


সারফেস কভুইট ওয়্যারিং (Surface Conduit wiring) : কল কারখানা, মিল-ফ্যাক্টরি, ওয়ার্কসপ ইত্যাদি স্থাপনায় দেয়ালের সরফেসের সাথে কভুইট এঁটে তার ভিতর দিয়ে ওয়্যারিং করা হয় বলে তাকে সরফেস কভুইট ওয়্যারিং বলে। সারফেস কভুইট ওয়্যারিং করার জন্য বিভিন্ন রংয়ের পিভিসি কভুইট ব্যবহার করা হয়। তাছাড়া গ্যালভানাইজড আয়রন বা ইস্পাতের কভুইটও ব্যবহার করা হয়। নিচের চিত্রে সারফেস কভুইট ওয়্যারিং এর নমুনা চিত্র দেখানাে হলাে।


সারফেস কভুইট ওয়্যারিং এর পদক্ষেপ।

১। প্রথমে দেয়াল ও ছাদে প্লান অনুযায়ী রঙ্গিন চক দিয়ে দাগ টেনে ওয়্যারিং এর পথ চিহ্নিত করতে হবে।

২। ডায়াগ্রাম অনুযায়ী মাপ দিয়ে কভুইট কেটে নিতে হবে। কভুইট কাটার পর প্রান্তভাগ ধারালাে হয় তাই ফাইল ঘষে প্রান্তভাগ মসৃণ করে দিতে হবে যাতে ক্যাবল টানার সময় ইনসুলেশন কেটে না যায়। ৩। মালামাল প্রস্তুত হলে ডায়াগ্রামের উপর দিয়ে 40–90 সে.মি. দূরে দূরে স্যাডলের মাপ অনুযায়ী ছিদ্র করতে হবে। প্রত্যেক সরঞ্জাম হতে 10 – 12 সে.মি. দূরে দূরে ছিদ্র করতে হবে।

৪। ক্যাবল টানার পূর্বে কভুইট বসাতে হবে এবং স্যাডলের দুইপ্রান্তে স্তু বসিয়ে আটকাতে হবে। ৫। এরপর কভুইটের প্রান্তভাগে সারকুলার বক্স, সুইচ বক্স, জাংশন বক্স, ফিউজ বক্স ইত্যাদি লাগাতে হবে।


৬। ক্যুইট বসানাের কাজ শেষ হলে কভুইটের মধ্য দিয়ে ক্যাবল টানার জন্য একটি কভুইট বক্স হতে অন্য বক্স পর্যন্ত একটি চিকন তার অথবা কোন ফিতা পরাতে হয় এবং এর সাথে একটি ড্র বা টানা তার লাগাতে হয়। এ তারকে ফিস ওয়্যার বলে। ফিস ওয়্যার বা টানা তারের অপর মাথায় ওয়্যারিং এর ক্যাবল বেঁধে টানতে হয়। টানা তারে ওয়্যারিং এর ক্যাবল বাঁধার জন্য ক্যাবলের প্রান্তে 50 মিলিমিটার পরিমাণ ইনসুলেশন উঠিয়ে সবগুলাে তারকে পাকিয়ে রিং তৈরি করা হয় এবং বাকি তার দিয়ে রিং এর সাথে শক্ত করে পেঁচিয়ে দিতে হয়। যাতে ক্যাবল টানার সময় রিং খুলে না যায়। পরে স্থানটি টেপ দিয়ে জড়িয়ে গােড়ার মুখটি সুচালাে করতে হয়। টানার সময় পিচ্ছিল হওয়ার জন্য ক্যাবলের উপর ফ্রেঞ্চ চক পাউডার দেয়া হয়। যাতে ক্যাবল সহজেই কভুইটের ভেতর প্রবেশ করতে পারে।


৮। কভুইটের ভেতর ক্যাবল পরানাে হলে সারকুলার বক্স, জাংশন বক্স এবং সুইচ বক্স বসিয়ে তারের সাথে সংযােগ দিতে হবে এবং বিভিন্ন যন্ত্রপাতি বসাতে হবে।

৯। বিভিন্ন পােলারিটির তার একই কভুইটের মধ্যে রাখতে হবে।

১০। কভুইটের পুরাে দৈর্ঘ্যের সংশিষ্ট সব ধাতব সরঞ্জাম যান্ত্রিক ও বৈদ্যুতিক সংযােগ অবিচ্ছিন্ন রাখতে হবে।

১১। কন্ডইটের গা বরাবর একটি তামা কিংবা ইস্পাতের তৈরি আর্থের তার নিয়ে যেতে হবে। তবে ইনসুলেশন | যুক্ত, আর্থের তার হলে কভুইটের ভিতর দিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। আর্থ তারের সাইজ প্রত্যেক কন্ডাক্টর। সাইজের অর্ধেকের কম হতে পারবে না।

১২। ওয়্যারিং সমাপ্তির পর তা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে সঠিক হলে বৈদ্যুতিক সরবরাহ দিতে হবে।


কনসিন্ড কভূইট ওয়্যারিং (Concealed Conduit wiring) : দালানের দেয়ালের মধ্যে দিয়ে তার পরিয়ে ওয়্যারিং করার পর মসলা দিয়ে প্রাস্টারিং করে কন্ডইট ঢেকে দিয়ে যে ওয়্যারিং করা শুরু। কনসিন্ড কভূইট ওয়্যারিং বলে। আবার অনেক সময় বিল্ডিং তৈরি করার সময় নকশা অনুযায়ী কইট বসিয়ে দেয়ালের পানি। দেয়া হয়। তাতে শ্রম ও ব্যয় উভয়ই অনেক কম হয়। তাছাড়া দেয়াল কেটে খাঁজ তৈরি করে ক্যুইট বসাতে হয় এবং 60 সে.মি, অন্তর অন্তর স্যাডেল লাগিয়ে কভুইট আটকাতে হয়।


পরবর্তীতে সিমেন্ট এর পাস্টারিং করে উন্মুক্ত কন্ডইট ঢেকে দিতে হয়। বর্তমানে সিনেমা হল, অডিটোরিয়াম, অভিজাত হােটেল, অফিস, আবাসিক ভবন, বহুতল ভবন প্রভৃতি স্থানে কনসিস্ট কভুইট ওয়্যারিং বহুলভাবে ব্যবহৃত হয়। কনসিন্ড কভূইট ওয়্যারিং করার পদক্ষেপসমূহ নিম্নে উল্লেখ করা হলাে।

১। যে স্থাপনার কভুইট ওয়্যারিং করতে হবে, তার ইলেকট্রিক্যাল লে আউট প্লান অনুযায়ী বাড়ির ছাদ ঢালাইয়ের সময় কভুইট স্থাপন করতে হবে। এ সময় সকেট, বেন্ড, এলবাে সেট করতে হবে।

২। বিভিন্ন রুমে ফ্যান বসানাের স্থানে সাটারিং এর উপর সিমেন্টের কাগজ বিছিয়ে তার উপর ফ্যানের হুক স্থাপন করতে হবে, যার মধ্যে কভুইট পাইপের মুখ এসে ঠেকে।


৩। বিভিন্ন রুমের টিউব লাইট, সুইচ বাের্ড, লাইটিং পয়েন্ট ইত্যাদির জন্য সেই সকল স্থানে ছাদ থেকে কভুইট

লাগিয়ে রাখতে হবে যেন কভূইট পাইপের মুখ রুমের দেয়ালে অবস্থান করে। এ অবস্থান এমন ভাবে হবে যেন কভুইটের উপর অন্তত 10 মি. মি. প্লাস্টারিং করা হয়।

৪। ছাদে বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সাজ সরঞ্জামের অবস্থান যেমন – সিলিং ফ্যান, ঝাড় বাতি, ফলস সিলিং লাগানাের হুক ইত্যাদি সঠিকভাবে মাপ জোক করে অবস্থান চিহ্নিত করতে হবে।

৫। ছাদে কভুইট বসানাের সময় পাইপগুলাে সােজাভাবে না বসিয়ে একটু বাঁকা করে স্থাপন করে ঢালাই দিতে হবে। যতদূর সম্ভব কম সংখ্যক পাইপ ছাদে স্থাপন করতে হবে।


৬। ঢালাইয়ের সময় পাইপ যাতে স্থানচ্যুত না হয় বা জয়েন্ট খুলে না যায় এজন্য নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। এ ছাড়া কভুইটের ক্ষয়-ক্ষতি, আঘাতপ্রাপ্ত হওয়া, পানি সিমেন্ট কভুইটের ভিতর যাতে ঢুকতে না পারে। সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

৭। বিভিন্ন রুমের দেয়াল গাথুনির সময় লেআউট প্লান অনুযায়ী সুইচ বাের্ড, এস ডিবি, এম ডিবি, কম্বাইন্ড থ্রি-পিন সকেট, বিভিন্ন গ্যাং সুইচ, পাওয়ার সকেট ইত্যাদি যথাযথ স্থানে বসাতে হবে। পিছনের অংশ এমনভাবে বসাতে হবে যাতে কভার অংশ লাগানাের পর তা প্লাস্টারের সামনে বের হয়ে থাকে। অর্থাৎ প্লাস্টারকৃত রুমের দেয়াল থেকে কভার অংশটুকু বের হয়ে থাকবে।


দেয়ালে নকশা অনুযায়ী ওয়াল কাটার মেশিনের সাহায্যে খাজ বা চ্যানেল কেটে তাতে স্যাডেল দ্বারা কইট আটকাতে হবে। এ কভুইটগুলাের মুখ সুইচ বাের্ডসহ দেয়ালে স্থাপিত বিভিন্ন সরঞ্জামাদির ভিতর থাকবে এবং অন্যদিক ছাদ থেকে আগমনী ক্যুইটের মুখে সংযােগ করতে হবে।

৯। কভূইট আটকানাে হলে তার মধ্যে চিকন জিআই তার বা ফিতার এক প্রান্তে বেঁধে টান দিয়ে কভুইটের ভিতর পরাতে হবে।


১০। তারপর ডিস্ট্রিবিউশন কক্স ফিউজ বক্স, সুইচ বক্স, জয়েন্ট বক্স এবং রাউন্ড বক্সগুলাে লাগাতে হবে এবং তাতে ক্যাবলের তারের সংযােগ দিতে হবে।

১১। এবার কভুইটের উপর মসলা দিয়ে প্লাস্টারিং করে দিতে হবে। ১২। ওয়্যারিং সম্পন্ন হলে ওয়্যারিং পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে হবে।

১৩। পরীক্ষা নিরীক্ষার পর ওয়্যারিং ত্রুটিমুক্ত বিবেচিত হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ দিতে হবে।


কনসিন্ড কভুইট ওয়্যারিং এর সুবিধা ও অসুবিধা :

সুবিধাসমূহ :

(i) কনসিন্ড কভূইট ওয়্যারিং এর ক্ষেত্রে আঘাত থেকে ক্যাবল বা তার রক্ষা পায়।

(ii) এ ধরনের ওয়্যারিং অনেকাংশে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটজনিত অগ্নি-ফুলিঙ্গের প্রভাব মুক্ত ।

(iii) এটি দীর্ঘস্থায়ী।

(iv) এ ধরনের ওয়্যারিং দেখতে সুন্দর।

(v) রক্ষণাবেক্ষণের ঝামেলা কম।

(vi) কভুইটের ভিতরে একটি ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে শুধুমাত্র ঐ ক্যাবলের পরিবর্তে নতুন ক্যাবল লাগানাে সহজ।


অসুবিধাসমূহ :

(i) এ ধরনের ওয়্যারিং এর প্রাথমিক খরচ বেশি।

(ii) এ ধরনের ওয়্যারিং করা সহজসাধ্য নয় এবং সময়ও বেশি লাগে। (iii) এ ধরনের ওয়্যারিং এর জন্য দক্ষ শ্রমিকের প্রয়ােজন হয়।

(iv) অভ্যন্তরীণ আর্দ্রতার জন্য তারের ইনসুলেশন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কোন ফিটিংস নষ্ট হলে তা পরিবর্তন করা কষ্টসাধ্য।


ব্যাটেন ওয়্যারিং (Batten wining):

কাঠের ফালি বা ব্যাটেন দেয়ালে আটকিয়ে তার উপর দিয়ে যে ওয়্যারিং করা হয় তাকে ব্যাটেন ওয়্যারিং বলা হয়। নিম ভােল্টেজ (230 ভােল্টেজ) সরবরাহের বৈদ্যতিক স্থাপন। ওয়্যারিং করার জন্য ব্যাটেন ওয়্যারিং করা হয়। এ ওয়্যারিং যে প্রয়ােজনমত 12.7 মিমি, 19.05 মিমি মি.মি, 38.1 মি.মি. 50.8 মি.মি, 63.5 মি.মি, সাইজের কাঠের ব্যাটেন ব্যবহার করা হয়। এ ধরনের ওয়ারি পদ্ধতি সহজ ও কম ব্যয়বহুল এবং এতে ব্যবহৃত প্রয়ােজনীয় মালামাল ও সরঞ্জামাদির দাম তুলনামূলকভাবে কম ও সহজলভ্য। ব্যাটেন ওয়্যারিং এ পিভিসি সিঙ্গেল কোর, টু-ইন কোর, ভিআইআর সিটিএস, বা এমএস ক্যাবল ব্যবহার কর হয়। ব্যাটেন ওয়্যারিং এ ব্যবহৃত ভিন্ন ভিন্ন কেবলের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়। যেমন, সিটিএস ওয়্যারিং, পিভিসি ক্যাবল দিয়ে ওয়্যারিং করা হলে তাকে পিভিসি ক্যাবল দিয়ে ওয়্যারিং করা হলে তাকে পিভিসি ওয়্যারিং এবং এমএস ক্যাবল দিয়ে ওয়্যারিং করা হলে তাকে এমএস ওয়্যারিং বলে। ব্যাটন ওয়্যারিং এ ব্যবহৃত ক্যাবলগুলাে বাইরে থেকে দেখা যায় তাই কোন ফল্ট দেখা দিলে তা সহজে চিহ্নিত করা যায়।


ব্যাটেন ওয়ারিং-এর জন্য প্রয়ােজনীয় মালামাল :

১। কাঠের ব্যাটেন

২। রাওয়েল প্লগ (কাঠের গুলি)

৩। স্কু

৪। পেরেক

৫। সুইচ বাের্ড/জাংশন বক্স/সুইচ বক্স

৬। লিংক ক্লিপ ও

৭। কাঠের কর্ণার।

*

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post