আর্থিং পরীক্ষা করার পদ্ধতিগুলাের বর্ণনা

আর্থিং পরীক্ষা করার পদ্ধতিগুলাের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেয়া হলাে:

টেস্ট পদ্ধতি : এ পদ্ধতিতে আর্থিং টেস্ট করার জন্য বৈদ্যুতিক বাতির একপ্রান্ত ফেজের সঙ্গে এবং অপর প্রান্ত আয় লিডের সঙ্গে ঠেকালে যদি বাতি পূর্ণ উজ্জ্বলভাবে জ্বলে উঠে তবে বুঝতে হবে আর্থিং ঠিক আছে। আর যদি বাতি পূর্ণ উজ্জ্বলভাবে না জ্বলে তবে আর্থিং রেজিস্ট্যান্স অনেক বেশি আর যদি বাতি পূর্ণভাবে না চলে তবে আর্থিং রেজিস্ট্যান্স অনেক বেশি আর যদি বাতি না জ্বলে তবে আর্থিং করা ঠিক হয় নি বলে বােঝা যাবে।


তবে এ পদ্ধতিতে আর্থ রেজিস্টেন্সের মান কত তা নির্ণয় করা যাবে না। বৈদ্যুতিক ঘণ্টা পদ্ধতি : এ পদ্ধতিতে আর্থিং পরীক্ষা করার জন্য বৈদ্যুতিক ঘণ্টার এক প্রান্ত ফেজের সাথে এবং অপর প্রান্ত আর্থ লিডের সাথে ঠেকালে যদি বৈদ্যুতিক ঘণ্টা সজোরে বেজে উঠে তবে বুঝতে হবে আর্থিং ঠিক আছে আর যদি বৈদ্যুতিক ঘণ্টা পূর্ণভাবে না বাজে তবে বুঝতে হবে আর্থিং রেজিস্ট্যান্স অনেক বেশি। আর যদি ঘণ্টা না বাজে তবে আর্থিং করা ঠিক হয় নাই বলে বুঝা যাবে।


তবে এ পদ্ধতিতে আর্থ রেজিস্টেন্সের মান কত তা নির্ণয় করা যাবে না ।

মেগার আর্থ টেস্টার পদ্ধতি : (ক) দুই পয়েন্ট পদ্ধতি (Two Points Method) : যখন একটি ইলেকট্রোডের রেজিস্টেন্সের মান জানা অথবা।

অবজ্ঞা করার মত হয়ে থাকে তখন. আর্থ ইলেকট্রোডের রেজিস্টেন্সের মান জানার জন্য এ পদ্ধতি দরকারি।


দুই পয়েন্ট পদ্ধতি উপরের চিত্রে A হচ্ছে আর্থ ইলেকট্রোড যার মান নির্ণয় করতে হবে এবং B ইলেকট্রোডের মান যা জানা আছে। অতঃপর R হিসাব করে যে রেজিস্ট্যান্স পাওয়া যাবে তা A এবং B ইলেকট্রোডের সম্মিলিত রেজিস্ট্যান্স । সুতরাং A ইলেকট্রোডের রেজিস্ট্যান্স = পরিমাণকৃত মােট রেজিস্ট্যান্স - B ইলেকট্রোডের রেজিস্ট্যান্স আর যদি B ইলেকট্রোডের রেজিস্ট্যান্স ।


আর যদি B ইলেকট্রোডের রেজিস্টেন্সের মান খুব কম (Negligible) হয় তবে A ইলেকট্রোডের রেজিস্টেন্সের মান = পরিমাপকৃত মােট রেজিস্টেন্সের মান। এ পরীক্ষার সময় নিম্নলিখিত সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়।

(i) পােলারাইজেশন ত্রুটি দূর করতে শুধুমাত্র অল্টারনেটিং কারেন্ট প্রবাহিত হবে।

দুটো ইলেকট্রোডের রেজিস্ট্যান্স যেন স্বতন্ত্র হয় এজন্য যতদূর সম্ভব ইলেকট্রোড দুটোর দূরুত্ব বেশি রাখতে হবে। (খ) তিন পয়েন্ট পদ্ধতি (Three Points Method) : এ পদ্ধতিতে B ও C দুটো অক্সিলিয়ারি ইলেকট্রোড ব্যবহার করা হয় যাদের রেজিস্টেন্সের মান জানা থাকার কোন প্রয়ােজন নেই।


তিনটি ইলেকট্রোডকে উপরের চিত্রের মত একটি ত্রিভুজের তিন কোণে বসাতে হয়। এবার প্রতি জোড়ার Resistane পরিমাপ করতে হবে। | R1 = A এবং B ইলেকট্রোডের রেজিস্ট্যান্স। 

R2 = B এবং C ইলেকট্রোডের রেজিস্ট্যান্স R3 = A এবং C ইলেকট্রোডের রেজিস্ট্যান্স সুতরাং A ইলেকট্রোডের রেজিস্ট্যান্স = R1+ R2+ R3/2

এ পদ্ধতির জন্য প্রয়ােজেনীয় বিষয়:


(i) অল্টারনেটিং কারেন্ট ব্যবহার করতে হবে।

(ii) ইলেকট্রোডগুলাের পারস্পরিক দূরতু যতটা সম্ভব বেশি রাখতে হবে যাতে তাদের নিজ নিজ রেজিস্ট্যান্স স্বতন্ত্র হয় ।

(iii) তিনটি ইলেকট্রোডের রেজিস্ট্যান্স একই ধারায় হতে হবে নতুবা অস্বাভবিক ফলাফল আসতে পারে। (গ) বিভব পতন পদ্ধতি (Fall of Potential Method) : এ পদ্ধতিতে দুটো অক্সিলিয়ারি ইলেকট্রোড ব্যবহৃত হয়।

সেগুলাে ত্রিভুজের কোণের উপর না বসিয়ে নিচের চিত্রের মত সরল রেখায় বসানাে হয়। নিচের চিত্রে বিভব পতন। পদ্ধতি দেখানাে হলাে :

বিভব পতন পদ্ধতি: অ্যাম্পিয়ার আল্টারনেটিং কারেন্ট A ও C ইলেকট্রোডের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত করানাে হয়। A ও B ইলেকট্রোডের আড়াআড়ি বিভব পরিমাপ করতে হয়। তখন A ইলেকট্রোডের রেজিস্ট্য ইলেকট্রোড B ও C এর মধ্যবর্তী বিভব ফলাফলের উপর কোন প্রভাব ফেলবে না।


C ইলেকট্রোডেকে অবশ্যই A ইলেকট্রোড হতে যথেষ্ট দূরে স্থাপন করতে হয়। এতে A এবং C এর মধ্যকার রেজিস্ট্যান্স ম্পূর্ণভাবে স্বাতন্দ্র হয়। যেখানে C ইলেকট্রোডকে যে কোন স্থানে স্থাপন করা হােক বা না হােক, C ইলেকট্রোডকে যে কোন দূরত্বে বসানাে হয় এবং A ও C ইলেকট্রোডের মধ্যবর্তী স্থানে বিভিন্ন দূরত্বের বিভিন্ন স্থানে B ইলেকট্রোড বসিয়ে A ও C এর মধ্যকার আর্থ রেজিস্ট্যান্স পরিমাপ করা হয় এবং নিচের চিত্রের ন্যায় একটি রেজিস্ট্যান্স Y অক্ষ বরাবর অঙ্কন করতে হয়।


আর্থ রেজিস্ট্যান্স কার্ভ যদি প্রাপ্ত কার্ভ Q এর মত হয় তবে A ও C এর রেজিস্ট্যান্স স্বাধীন নয় আর যদি কার্ভ P এর মত হয়, ত বেজিস্ট্যান্স স্বাধীন হবে এবং B ইলেকট্রোডকে উল্লম্ব লাইন X ও Y আৰ্থাৎ অনুভূমিক অবস্থানের যে কোন বিষয়ে – রেজিস্ট্যান্স নির্ণয় করা যায়।


মেগার অর্থ টেস্টারের সাহয্যে সরাসরি আর্থ রেজিস্ট্যান্স পরিমাপ পদ্ধতি: মেগার আর্থ টেস্টার একটি বিশেষ ধরনের মেগার যা আর ইলেকট্রোডের মধ্য দিয়ে অল্টারনেটিং কারেন্ট (AC) এবং পরিমাপ যন্ত্রের মধ্য দিয়ে ডাইরেক্ট কারেন্ট (DC) প্রেরণ করে। নিম্নে মেগার আর্থ টেস্টারের অভ্যন্তরীণ সংযােগ দেখানাে হলাে:


মেগার আর্থ টেস্টারের তিনটি বা চারটি টার্মিনাল থাকে। তিন প্রান্ত বিশিষ্ট টার্মিনালগুলাে E, P এবং C দ্বারা চিহ্নিত থাকে। চার টার্মিনালের মেগার আর্থ টেস্টারের চারটি টার্মিনাল (P1, C1, P2 এবং C2 বাইরের দিকে আছে। এদের মধ্যে P ও C টার্মিনালে দুটো শট করে আর্থ ইলেকট্রোড E এর সাথে যুক্ত করা হয়। যা টেস্টের সময় মাটিতে পুঁতে দিতে হয়। অন্য দুটো ইলেকট্রোড P) ও C2 কে দুটো অক্সিলিয়ারি টার্মিনাল যথাক্রমে P ও C এর সাথে যুক্ত করা হয় ।

P ও C টার্মিনাল দুটো টেস্টের সময় চিত্রানুযায়ি মাটিতে পুঁতে দিতে হয়। E, P.ও C টার্মিনাল তিনটি E হতে P 23 মিটার দূরে এবং E হতে C, 46 মিটার দূরে মাটিতে পুঁতে আর্থ টেস্টারের হাতল সুষম গতিতে ঘুরালে আর্থ টেস্টারের যে পাঠ পাওয়া যায় সেটিই হবে ঐ স্থানের আর্থ রেজিস্ট্যান্স। এভাবে আর্থ টেস্টারের সাহায্যে আর্থ রেজিস্ট্যান্স পরিমাপ করা হয়। আর্থ রেজিস্ট্যাল টেস্ট করার পদ্ধতি : নিম্নে চিত্রের সাহায্যে মেগার আর্থ টেস্টারের সাহায্যে আর্থ রেজিস্ট্যান্স পরিমাপ পদ্ধতি দেখানাে হলাে –


কিছু বিষয় অনুসরণ করে মেগার আর্থ টেস্টারের সাহায্যে আর্থ রেজিস্ট্যান্স পরিমাপ করা হয়

(i) যে ইলেকট্রোডের সাহায্যে আর্থ টেস্ট করতে হবে প্রথমে সেই ইলেকট্রোতের আর্থ টেস্টারের সাথে সংযুক্ত করতে হবে।

(ii) ইলেকট্রোডের সাথে ক্রোকোডাইল ক্লিপ দ্বারা মেগারের E প্রান্ত হতে পােরয়ে আসা ইনসুলেটেড টার্মিনাল ভালভাবে যুক্ত করতে হবে।

(iii) টেস্টিং টার্মিনাল অর্থাৎ আর্থ ইলেকট্রোড E থেকে 23 মিটার দূরে P স্পাইক এবং পাইপগুলাে ইনসুলেটেড তার দিয়ে মেগারের P এবং C টার্মিনালের সাথে সংযােগ করতে হবে


(iv) সাহায্যকারী P ও C স্পাইক দুটো উল্লেখিত দরে মাটির মধ্যে এমনভাবে পুততে হবে যাতে এরা মেইন হলেকটোতে

সাথে একই সরলরেখায় অবস্থান করে।

(v) সংযােগের সময় লক্ষ রাখতে হবে যেন কোন লজ কনট্যাক্ট না থাকে এবং প্রয়ােজনে সকল সংযােগস্থল শিরিষ কাগজ দিয়ে ঘষে নিতে হয়। এবার স্পাইকদ্বয় উঠিয়ে 1 - 3 মিটার পাশে সরিয়ে আরাে দুটি পাঠ নিতে হবে। তিনটি পাঠের গড় নির্ণয় করলে তার রেজিস্টেন্সের গড়মান পাওয়া যাবে। সতর্কতা :


(i) টেস্টিং মেগারের পাঠ সাবধানতার সাথে গ্রহণ করতে হবে।

(ii) স্পাইকগুলাে মাটির মধ্যে অন্তত 1 মিটার পর্যন্ত পুঁততে হবে।। (iii) E, P এবং C স্পাইকগুলাে একই সরলরেখায় থাকতে হবে।

(iv) ভিজা স্যাতস্যাতে জায়গায় স্পাইকগুলাে বসানাের স্থান নির্বাচন করতে হবে এবং স্পাইক পুঁতার স্থান পানি দিয়ে।

ভিজাতে হবে।

(v) সকল টার্মিনালগুলাের সংযােগ শক্তভাবে দিতে হবে।

(vi) ডিজিটাল মিটার হলে তার ভিতরের ব্যাটারি ভাল আছে কিনা তা টেস্ট করে নিতে হবে ।

(vii) আর্থ রেজিস্ট্যান্স কত আছে তা জানার জন্য আর্থ রেজিস্ট্যান্স 1 বছর অন্তর অন্তর পরীক্ষা করা উচিত।


বিভিন্ন বৈদ্যুতি স্থাপনার আর্থ রেজিস্টেন্সের কাঙ্ক্ষিত মান: যে কোন বৈদ্যুতিক স্থাপনার আর্থ রেজিস্ট্যান্স যত কম হয় ততই ভাল কিন্তু বাস্তবক্ষেত্রে তা হয় না। এজন্য বিভিন্ন ধরনের স্থাপনার আর্থ রেজিস্টেন্সের বিভিন্ন ধরনের কাক্ষিত মান থাকে। নিম্নে কয়েকটি স্থাপনার কাঙিক্ষত আর্থ রেজিস্টেন্সের মান। বড় ধরনের পাওয়ার স্টেশন 0.5Ω , মধ্যম আকারের পাওয়ার স্টেশন বা মাঝারি সাব স্টেশন 1.0Ω ছােট পাওয়ার স্টেশন বা সাব স্টেশন 2Ω , পাহাড়ি অঞ্চলের হাউজ ওয়্যারিং 8.0Ω , সাধারণ ক্ষেত্রে হাউজ ওয়্যারিং 5.0Ω (সর্বোচ্চ).


আর্থ প্লেট হতে যে কোন একটি পয়েন্টের মধ্যবর্তী রেজিস্ট্যান্স।

1.0Ω

উল্লেখ্য যে, সকলক্ষেত্রেই কাঙিক্ষত মান সর্বোচ্চ গ্রহণযােগ্য মান। আর্থাৎ আর্থ রেজিস্টেন্সের মান কাক্ষিত মানের যত কম হয় ততই ভাল। কোন অবস্থাতেই আর্থ রেজিস্টেন্সের মান অপেক্ষা বেশি হলে তা গ্রহণযােগ্য হবে না। যে সকল জিনিস অবশ্যই আর্থ করতে হয় নিয়ে সেগুলাের তালিকা দেয়া হলাে :

(১) থ্রি-পিন প্লাগ ও, সকেটের আর্থ পিন।

(২) বৈদ্যুতিক লাইনে ব্যবহৃত ক্যাবলের ধাতব কভার ও ক্যাবলের ধাতব শিথ বৈদ্যুতিক কাজে ব্যবহৃত কভুইট ও জিআই পাইপ। বৈদ্যতিক যন্ত্রপাতির সাজ সরঞ্জাম, অ্যাপ্লায়েন্স বা ডিভাইসের ধাতব কভার । আয়রন ক্ল্যাড সুইচের বডি ও ডিস্ট্রিবিউশন ফিউজ বাের্ড। বহনযােগ্য যন্ত্রপাতি যেমন- হিটার, বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি, সােল্ডারিং আয়রন, ইলেকটিক ডিল মেশিন, রাইচ ফু" ক্রোওয়েভ ওভেন, রেফ্রিজারেটর ইত্যাদিকে থ্রি-পিন প্লগ ও সকেটের মাধ্যমে আর্থ করতে হবে।


৭) জেনারেটর, মােটর, ট্রান্সফরমার এবং বৈদ্যুতিক নিয়ন্ত্রণকারী যন্ত্রপাতি এবং মাঝারি ভােল্টেজের সকল দৈনিক ঘন্ত্রপাতিকে দুটি স্বতন্ত্র ও পৃথকভাবে আর্থিং করতে হবে।

(৮) উৎপাদনকেন্দ্র ও উপকেন্দ্র তিনফেজ চার তার ব্যবস্থার নিউট্রালকে অন্ততঃপক্ষে দুটি পৃথক বা স্বতন্ত্রভাবে অর্থ করতে হবে। তাছাড়া ডিস্ট্রিবিউশন লাইনের নিউট্রালকে একাধিক পয়েন্টে আর্থ করতে হয়। (

৯) তিন তার ভিসি সিস্টেমের নিউট্রাল তারকে উৎপাদন কেন্দ্রে আর্থ করা হয়।

(১০) বৈদ্যুতিক ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন লাইনের পােল, টাওয়ার প্রভৃতিকে আর্থ করতে হয়। এক্ষেত্রে একটা আর্থ তার পােল বা টাওয়ারের সর্ব উপর দিয়ে টেনে নেয়া হয় এবং টাওয়ারকে আর্থ তারের সঙ্গে যুক্ত করতে হয়।

(১১) ওভারহেড লাইনের টানা তারের সাথে আর্থ তার সংযুক্ত করতে হয়।


বৈদ্যতিক স্থাপনা আর্থ করার ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয়সমূহ:

(১) ভবন বা ঘর থেকে আর্থের দূরত্ব : যে ভবনের বৈদ্যুতিক স্থাপনা আর্থ করতে হবে সে ভবন হতে আর্থ ইলেকট্রোডের

' দূরত্ব 1.5 মিটারের কম হবে না।

(২) আর্থ তারের সাইজ : যে তার দ্বারা বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি আর্থ করা হবে সে তারকে আর্থের নিরবচ্ছিন্ন তার (Earth Continuity Conductor) বলে। এ তারের সর্বনিম্ন গ্রহণযােগ্য প্রস্থচ্ছেদ হবে বৈদ্যুতিক স্থাপনার ওয়্যারিং এ ব্যবহৃত সবচেয়ে মােটা তারের প্রস্থচ্ছেদের অন্তত অর্ধেকের কম নয় তবে 3 বর্গ মি.মি বা 14 SWG এর কম হবে না।


(৩) আর্থ তার এবং আর্থ ইলেকট্রোড একই ধাতুর হওয়া উচিত।

(৪) আর্থ তারকে যখম হতে রক্ষা করার জন্য 12.7 মি.মি ব্যাসের জি আই পাইপের ভিতর দিয়ে আর্থ তার নিয়ে যেতে হয়। তারের যে অংশ মাটিতে থাকবে তা অন্ততঃপক্ষে মাটির 60 সে.মি. নিচ দিয়ে আর্থ ইলেকট্রোড পর্যন্ত নিতে হবে।


(৫) আর্থ ইলেকট্রোড থেকে মেইন বাের্ড পর্যন্ত আর্থ তার প্রথমে এনে সেখান থেকে বিভিন্ন সাব সার্কিটে টানা হয়। আর্থ তারের সমস্ত সংযােগ খুবই দৃঢ়ভাবে করতে হয়। আর্থ রেজিস্ট্যান্স কমানাের উপায় : কোন বৈদ্যুতিক স্থাপনার আর্থ রেজিস্ট্যান্স গ্রহণযােগ্য সীমার বেশি হলে অথবা শুষ্ক । মৌসুমে আর্থ রেজিস্ট্যান্স বেড়ে গেলে তা কমানাের জন্য নিম্নলিখিত পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়।


(১) আর্থিং এর কাজ শেষ করার দীর্ঘদিন পর শুষ্ক মৌসুমে আর্থ রেজিস্টেন্সের মান বৃদ্ধি পেলে তখন

(ক) আর্থ ইলেকট্রোডের গােড়ায় পানি ঢালতে হবে।

(খ) যদি এতে আর্থ রেজিস্ট্যান্স এর মান না কমে সেক্ষেত্রে আর্থ ইলেকট্রোডের চারপাশে 15 মিটার হতে 2 মিটার গভীর গর্ত খুঁড়ে আর্থ ইলেকট্রাডের মরিচা পরিষ্কার করে লবন পানি ও কাঠকয়লা দ্বারা গর্ত ভরে দিতে হবে ।


(২) আর্থ ইলেকট্রোডকে মাটির অভ্যন্তরে বেশি গভীরতায় পুঁতে দিলে আর্থ রেজিস্ট্যান্স কমে যায়।

(৩) আর্থ ইলেকট্রোডকে শুষ্ক স্থান হতে ভিজা স্থানে পুঁতে দিয়ে আর্থ রেজিস্ট্যান্স কমানাে যায় ।

(৪) আর্থ রেজিস্ট্যান্স কমানাের জন্য বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতি হচ্ছে নির্দিষ্ট গভীরতায় (3 মিটার) একাধিক আর্থ ইলেকট্রোড বসিয়ে সেগুলাে প্যারালালে যুক্ত করলে আর্থ রেজিস্ট্যান্স কমে যাবে। নিম্নচাপের ক্ষেত্রে (For Low voltage Supply) :


ক. নিম্নচাপের সরবরাহের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী নিজস্ব আথিংও করতে পারেন অথবা সরবরাহ কর্তৃপক্ষের আর্থিংও গ্রহণ করতে পারেন।

খ. এক্ষেত্রে মেইন ডিস্ট্রিবিউশন বাের্ড থেকে বিভিন্ন সাব-মেইন ডিস্ট্রিবিউশন পর্যন্ত ন্যূনতম ৪ নং SwG তামার বা GI

এর ব্যবহার করা হয়।

গ. সাবমেইন ডিস্ট্রিবিউশন থেকে বিভিন্ন সাব সার্কিটের সুইচ বাের্ড ও সকেটের আর্থ পিনে ন্যুনতম ১৪ নং SwG তামার তার দ্বারা আর্থ কন্টিনিউটি তার টানা হয়।


বৈদ্যুতিক মােটর স্থাপনের ক্ষেত্রে (In Case of motor installation : ক, বৈদ্যুতিক মােটর সংস্থাপনের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারী (Consumer) তার নিজস্ব আর্থের ব্যবস্থা করবেন।

খ, SwG আর্থ ইলেকট্রোড ও আর্থ তারের সাইজ নির্ভর করবে মােটরের রেটেড পাওয়ার বা ক্ষমতার উপর। তবে আর্থ তারের সাইজ যান্ত্রিক বিবেচনায় সর্বোচ্চ 64.5mm2 হবে এবং কোনক্রমেই 14 নং SWG বা 2.0 mm এর নিচে । আর বৈদ্যুতিক বিবেচনায় তামার তার সবচেয়ে মােটা কারেন্টবাহী তারের অর্ধেকের কম হতে পারবে না।


Three Phase মেশিন ও ইকুইপমেন্টের জন্য ডাল আর্থিং করতে হয় : কারণ - প্রথমত : বৈদ্যুতিক মেশিন ও এ্যাপ্লায়েন্সে শর্ট সার্কিট লিকেজ কারেন্ট অথবা যেকোন দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পাবার জন্য। অল্প মানের রেজিস্ট্যান্সের মধ্য দিয়ে সহজেই কারেন্ট প্রবাহিত হওয়ার জন্য ডাবল আর্থিং করতে হয়।

দ্বিতীয়ত : যদি কোন কারণ বশত একটি আর্থিং লাইন নষ্ট হয়ে যায়, অন্য আর্থ লাইনটি ভালভাবে কাজ করে বিপদমুক্ত রাখতে সক্ষম হয়।


*

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post