বৈদ্যুতিক বিধি-বিধান কোড , ওভারহেড লাইনের জন্য যে সকল বিধি অনুসরণীয়

বৈদ্যুতিক বিধি-বিধান কোড , ওভারহেড লাইনের জন্য যে সকল বিধি অনুসরণীয়

সাধারণভাবে ওভারহেড লাইন তারের টান সহন ক্ষমতা 350 কেজির কম হলে চলবে তার মধ্যে অবস্থিত নিম্ন চাপের লাইনের স্প্যান যদি 15 মিটারের বেশি না হয়, তবে তারের টান সহন ১৫০ কেজির-র উপরে হলেও চলবে। মাটি থেকে নিম্নতর তারের ব্যবধান :
(ক) রাস্তার আড়াআড়ি টাঙ্গানাে তারের জন্য:
(১) নিম্ন ও মাঝারি চাপের লাইনের জন্য 5.791 মি (19 ফুট)
(২)উচ্চ চাপের লাইনের জন্য 6.096 মি (205)


(খ) রাস্তার বরাবর টাঙ্গানাে তারের জন্য
১) নিম্ন ও মাঝারি চাপের লাইনের জন্য 5.486 মি. (18 ফুট)
(২)উচ্চ চাপের লাইনের জন্য 5.791 মি. (19 ফুট)

(গ) অন্যান্য স্থানে টাঙ্গানাে তারের জন্য:
(১) 11KV পর্যন্ত লাইনের জন্য 4.572 মি (15 ফুট), ইনসুলেটেড লাইনের জন্য 3.963 মি (13 ফুট)

(২) উচ্চ চাপের লাইনের জন্য 6.096 মি (20 ফুট) (ঘ) 33KV-র বেশি চাপের লাইনের জন্য 5.182 মি (17 ফুট) + প্রতি 33KV বা অংশের জন্য 0.305 মি (1 ফুট)। অবশ্য রাস্তার আড়াআড়ি বা বরাবর হলে কোন ক্ষেত্রেই তারের ব্যবধান 6.096 মি (20 ফুট)-এর কম হতে পারবে না।

রুল ৩. ঘরবাড়ি থেকে নিম্ন ও মাঝারি চাপের লাইনের ব্যবধান :

(ক) উল্লম্ব ব্যবধান (Vertical distance) : 2.439 মি (৪ ফুট) ।

(খ) অনুভূমিক ব্যবধান (Horizontal distance) : 1.219 মি (4 ফুট)।

রুল ৪. ঘরবাড়ি থেকে উচচ ও অতি উচ্চ চাপের লাইনের ব্যবধান :

(ক) শীর্ষস্থত ব্যবধান (Vertex distance) :

i. 33KV পর্যন্ত লাইনের জন্য 3.658 মি

ii. 33KV-র বেশি চাপের লাইনের জন্য 3.658 মি + প্রতি 33KV বা অংশের জন্য 0.305 মি।


(খ) আনুভূমিক ব্যবধান :

i. 33KV পর্যন্ত লাইনের জন্য 1.219 মি

ii. 33KV পর্যন্ত লাইনের জন্য 1.829 মি.

iii. 33KV-র বেশি চাপের লাইনের জন্য 1.219. মি+ প্রতি 33KV বা অংশের জন্য 0.305 মি ।


রুল ৫. একই পােলে বিভিন্ন ভােল্টেজের লাইন : একই পােলের উপর বিভিন্ন ভােল্টেজের লাইন থাকলে, উচ্চ চাপের লাইনের সঙ্গে যাতে নিম্ন চাপের লাইনের সংস্পর্শ না ঘটে সে ব্যবস্থা করতে হবে। এক্ষেত্রে উচ্চ চাপের লাইন উপরে এবং নিম্ন চাপের লাইন নিচের দিকে রেখে মাঝখানে গার্ড দিতে হবে।


রুল ৬. লাইনের তলায় বা কাছাকাছি বাড়ি নির্মাণ : ওভারহেড লাইন তৈরী হয়ে যাবার পর কেও যদি উক্ত লাইনের তলায় বা কাছাকাছি বাড়ি তৈরি করতে গিয়ে মনে করেন যে লাইন থেকে প্রয়ােজনীয় ব্যবধান (রুল 3 ও রুল 4-এ উল্লেখিত) থাকবে তবে সরবরাহকারী ও বৈদ্যুতিক ইন্সপেকটরকে তা লিখে জানাতে হবে। সরবরাহকারী প্রয়ােজনবােধে লাইনটি সরিয়ে দেবেন। অন্য কোনরূপ চুক্তি না হলে লাইন সরানাের খরচ বাড়ির মালিককে বহন করতে হবে।


রুল ৭. ওভারহেড লাইনের কাছে মালপত্র পরিবহন এবং জমানাে : মালিকের অনুমােদিত লােকের তত্ত্বাবধানে ছাড়া ওভারহেড লাইনের তলা বা কাছ দিয়ে বড় পাইপ ইত্যাদি মাল নিয়ে যাওয়া চলবে না। কোন শর্তেই অবশ্য এগুলােকে ফ্লাশ ওভার দূরত্বে আনা চলবে না। কোন মাল-পত্র, কাটা মাটি বা কৃষিজাত দ্রব্য লাইনের তলায় জড়াে করা চলবে না।


রুল ৮. এরােড্রামের কাছের লাইন ; এরােড্রাম কর্তৃপক্ষ পরিকল্পিত লাইনের জন্য লিখিত অনুমতি না দিলে এরােড্রামের কাছাকাছি কোন ওভারহেড লাইন তৈরি করা যাবে না।


রুল ৯. দুটি পােলের মধ্যে ব্যবধান : তারের শক্তি অনুযায়ী দুটি পােলের মধ্যে ব্যবধান স্থির করতে হবে। তবে নিম্ন ও মাঝারি চাপের লাইনের জন্য স্প্যানের দৈর্ঘ্য 65 মিটারের বেশি হতে পারবে না।

রুল ১০. দুটি লাইনের মধ্যে ক্রসিং : একটি ওভারহেড লাইন অপর কোন ওভারহেড লাইন বা টিঅ্যান্ডটি লাইনকে অতিক্রম/ক্রস করলে লাইন দুটির মধ্যে গার্ডের ব্যবস্থা করতে হবে।

ফল ১১. সার্ভিক্স লাইন ; পােলের কাছাকাছি ছাড়া তারের অন্য জায়গা হতে সার্ভিস লাইন টানা যাবে না। নিম্ন ও মাঝারি । চাপের ক্ষেত্রে এক জায়গায় ট্যাপিং এর সংখ্যা 4টির বেশি হবে না।


রুল ১২. আর্থিং ব্যবস্থা : সকল ধাতব পােল, টাওয়ার ও অন্যান্য ফিটিংসমূহ খুব ভালভাবে আর্থ করতে হবে। এজন্য লাইন বরাবর একটি অবিচ্ছিন্ন আর্থের তার রাখতে হবে। এই তার প্রতি পােলের সাথে লাগাতে হবে এবং প্রতি কিলােমিটারে অন্তত তিন জায়গায় আর্থের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে। অন্যভাবে প্রত্যেক পােল ও টাওয়ারকে পৃথকভাবেও আর্থ করা যেতে পারে।


রুল ১৩. নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা : ওভারহেড লাইন বা সার্ভিস লাইন পথঘাট, সাধারণের জায়গা, ফ্যাক্টরি বা গ্রাহকের বাড়ির আঙ্গিনার উপর দিয়ে চলে গেলে অবশ্যই নিরাপত্তামূলক ক্র্যাড়ল গার্ডের ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে তার ছিড়ে গেলে জানমালের কোন ক্ষতি না হয়।


রুল ১৪. বজ্রপাতজনিত আরক্ষা ব্যবস্থা : বজ্রপাত-জনিত ক্ষতির হাত থেকে লাইনকে রক্ষা করার জন্য ওভারহেড লাইনে বই নিরােধক বা Lightning arrestor লাগাতে হবে।


বিদ্যুৎ বিধি বিধানের গুরুত্ব (Describe the Importance of Electricity Act/Rules):

বিদ্যুতের ব্যবহার মানব সভ্যতা বিকাশের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিদ্যুতের নাম প্রত্যতা বিকাশের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিদ্যতের উৎপাদন, পরিচালন, বিতরণ ইত্যাদি বিভিন্ন পদ্ধতির মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে থাকে। নিম্ন মধ্যম উচ্চ, অতি উচ্চ ভােল্টেজ একেক ধরনের ভােল্টেজের বিদ্যুৎ একেক ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। বিদ্যুৎ যেমন মানুষের উপকারে আসে তেমন অসাবধানতাবশত তা পরিচালনায় ভুলত্রুটি হলে জানমালের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। বিদ্যুৎ ব্যবহারের যে সকল নিয়মকানুন ও সতর্কতা মেনে চলা দরকার তার ব্যতিক্রম হলে অনেক ক্ষতি হতে পারে।


বিদ্যুৎ ব্যবহারে অসতর্ক হলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে। বৈদ্যুতিক লিকেজ, শর্ট সার্কিট ইত্যাদি দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আবার যথােপযুক্ত ভােল্টেজ সরবরাহ না দিলে যন্ত্রপাতিকে কাজে লাগানাে যাবে না। কম। ভােল্টজে যন্ত্রপাতি চলে না আর অতিরিক্ত ভােল্টেজে যন্ত্রপাতি ও লাইন জ্বলে যেতে পারে। বিদ্যুৎ ব্যবহারের এ সমস্ত ঝুঁকি এড়িয়ে চলার জন্য বিভিন্ন বিধি প্রবর্তিত হয়েছে। বৈদ্যুতিক বিধি অনুসারে বিদ্যুতের ব্যবহার। নিশ্চিত করলে বিদ্যুৎ ব্যবহারের যে কোন ঝুঁকি এড়িয়ে চলা সম্ভব। বিদ্যুৎ বিধি মেনে চললে নিম্নলিখিত ঝুঁকি এড়িয়ে চলা সম্ভব।


(১) তড়িতাঘাত (Electric Shock) হতে নিরাপদ থাকা যায়।

(২) বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটজনিত আগুন লাগার ঝুঁকি হতে নিরাপদে থাকা যায়।

(৩) বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির সন্তোষজনক ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়।

(৪) আগুন লাগার ঝুঁকি সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখা যায়।

(৫) ব্যবহার্য যন্ত্রপাতির কর্মক্ষমতা ও আয়ুস্কাল বৃদ্ধি পায়।

(৬) সরবরাহকারী ও গ্রাহক উভয়ের মধ্যে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে পারস্পরিক সুসম্পর্ক বিরাজ করে।


বৈদ্যুতিক ঝুঁকি প্রতিরােধে গৃহীত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা (Explain the Need for Maintaining Safety Procedures Against Electrical Hazards): বৈদ্যুতিক ঝুঁকি এড়িয়ে চলতে নিম্নলিখিত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার :

(১) বৈদ্যুতিক ঝুঁকি এড়িয়ে চলার জন্য বিদ্যুৎ বিধিবিধান যথাযথভাবে মেনে চলা আবশ্যক। (২) লােডের জন্য উপযুক্ত ভােল্টেজ সরবরাহ করতে হবে।

(৩) বৈদ্যুতিক স্থাপনার নির্মাণ, স্থাপন, রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচালনা ও রক্ষণ বিদ্যুৎ বিধিবিধান মােতাবেক হতে হবে।

(৪) সঠিক মানের কাট আউট বসাতে হবে।

(৫) যথােপযুক্ত মানের মেইন সুইচ বসাতে হবে।

(৬) ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, ফিকচার ও ফিটিংস যথাযথ মানের হতে হবে।

(৭) সকল যন্ত্রপাতির ধাতব বড়িকে আর্থের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে ।

(৮) উপযুক্ত সাইজ ও মানের নিরাপত্তামূলক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে হবে।

(৯) আর্থ কন্টিনিউয়িটি কন্ডাক্টরের (ECC) রেজিস্টেন্স নির্দিষ্ট মানের আছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখতে হবে।

(১০) স্থাপনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ দেওয়ার পূর্বে পরীক্ষা বা টেস্ট করতে হবে।

(১১) গ্রাহকের স্থাপনা নিয়মিতভাবে পরিদর্শন ও পরীক্ষা করতে হবে ।

(১২) গ্রাহক প্রান্তে গ্রাহকের লােডে বা সার্কিটে লিকেজ আছে কিনা তা পরীক্ষা করতে হবে।

(১৩)গ্রাহকের যন্ত্রপাতি ও লাইনে গ্রহণযােগ্য সীমার অতিরিক্ত লিকেজ থাকলে সরবরাহ বন্ধ রাখতে হবে।

(১৪) গ্রাহক প্রান্তে উপযুক্ত লিং সুইচ ও সার্কিট ব্রেকার বসাতে হবে।

(১৫) গ্রাহক লােড়ে নির্ধারিত ফ্রিকুয়েন্সির 3% এর বেশি ফ্রিকুয়েন্সি কম বেশি হতে পারবে না।

(১৬) ইনসুলেশন রেজিস্টেন্স পরীক্ষা করতে হবে এবং তা নির্দিষ্ট মানে রাখতে হবে ।

(১৭) নিম্ন ও মধ্যম ভােল্টেজ লাইনের এবং সার্ভিস লাইন হতে বিল্ডিং এর মধ্যবর্তী স্থানে উপযুক্ত ফাক থাকতে হবে।

(১৮) টেলিকমিউনিকেশন লাইন, রেল লাইন, রাস্তার আড়াআড়ি বিদ্যুৎ লাইন চলে গেলে তাতে গার্ড ওয়্যার ব্যবহার করতে হবে।


সার্ভিস এন্ট্রান্স তারের ওভার কারেন্ট প্রটেকশন (কোড সেকশন 230 - 44-B): এ কোড মােতাবেক সার্ভিস এন্ট্রান্স তারের শুরুর বিন্দতে একটি ওভার কারেন্ট প্রটেকশন (এরিয়াল ফিউজ) অবশ্যই যুক্ত করতে হবে।

সােন্ডারবিহীন কানেক্টর (Solderless connector) : কোড সেকশন 230-72-এ সােল্ডারবিহীন কানেক্টর সম্পর্কিত আলােচনা করা হয়েছে। ইলেকট্রিক্যাল ইকুইপমেন্ট যেমন : সার্কিট ব্রেকার; সুইচ, সার্ভিস এন্ট্রান্স ইত্যাদিতে ঝালাই করা চলে না। তা এ সকল স্থানে ঝালাইবিহীন সংযােগ স্থলে চাপের সাহায্যে সংযােগ করা হয় ।


বাস্তবিক ভােল্টেজ ড্রপ (Practical voltage drop) : কোড সেকশন 210 - 6 সি এ কোড সেকশন অনুসরণ করে শাখা বর্তনীতে (Branch circuit) সবচেয়ে দূরের বিন্দুতে ভােল্টেজ ড্রপ জানা যায়। এক্ষেত্রে ভােল্টেজ ড্রপ সরবরাহ ভােল্টেজের শতকরা 3 ভাগের অধিক হবে না। ফিডার ও শাখা বর্তনীর ভােল্টেজ ড্রপ শতকরা 5 ভাগের বেশি হবে না। সাধারণভাবে ভােল্টেজ ড্রপ সর্বাধিক বিন্দুতে শতকরা 2 ভাগের বেশি হবে না।


সার্ভিস ইনসুলেটর (Service Insulator) : কোড সেকশন 230 - 51 : বৈদ্যুতিক কোড সেকশন ০২০ অনযায়ী সার্ভিস ব্রাকেট (Service Bracket or Secondary Bracks) এ ইনসুলেটর 15.25 – 20 32 সেমি দূরত্বে রাখতে হবে। A বিন্দু হতে B বিন্দু 30.48 সেমি উঁচুতে থাকবে তা সম্ভব না হয় না হলে A হতে B বিন্দুতে 60.96 সেমি. নিচের দিকে থাকবে। সেক্ষেত্রে ডিপ লুপ ব্যবহার করতে হবে। থাকবে। তাও সম্ভব না হলে A হতে B বিন্দুতে 60.96 সেমি, নিচের দিকে থাকবে।


সমান্তরাল তার (Wires in parallel): কোড সেকশন 310 - 10 : বৈদ্যুতিক কোড সেকশন অনুযায়ী খুব বড় আকারের এক তারের পরিবর্তে দুই বা ততােধিক সমান্তরাল তার ব্যবহারের বিধান আছে। অনেক তার সমান্তরালে ব্যবহার করার জন্য নিম্নে বর্ণিত শর্তগুলাে অনুসৃত হয়ে আসছে।

(i) তার একই দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট হবে।

(ii) তার একই প্রস্থচ্ছেদ বিশিষ্ট হবে।

(iii) কমপক্ষে তারের সাইজ অথবা এর চেয়ে বেশি হবে।

(iv) সংযােগ প্রান্ত একই ধরনের হবে।

(v) সকল তার একই উপকরণ দিয়ে তৈরি হবে।

(vi) তারের ইনসুলেশন একই ধরনের হবে।


উদাহরণ : ধরা যায়, 3 তারের বর্তনী যার ফুল লােড কারেন্ট 490A এবং ক্যাবলের প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল 800 এমসিএম (MCM)। তিনটি ক্যাবলের পরিবর্তে ছয়টি ছােট আকারের ক্যাবল দুটি কন্ডুইটে ব্যবহার করতে হবে। এদের প্রতিটির প্রস্থচ্ছেদ 250 MCM এবং অ্যাপাসিটি 255A। 


সার্কিটের সংখ্যা নির্ধারণী এলাকা (Area Determines Mumber of Circuits); 220 - 2, 220 - 3; এ সেকশন কোড অনুযায়ী আলােচ্য স্থাপনীয় মােট কয়টি সার্কিটের প্রয়ােজন হবে তা উল্লেখ থকে ।

সার্ভিস ব্যবধান (Service Clearrnce); 230 - 26, 230 – 24 : এ সেকশন কোড দ্বারা সার্ভিস তার ও ভূমির উল্লম্ব উচ্চতা কত হবে তা উল্লেখ থাকে।


আর্থ ভােল্টেজ (Earth voltage) 100 : এ সেকশন কোড দ্বারা আর্থ ভােল্টেজ কত হবে তা নির্ধারণ করা হবে ।

বৈদ্যুতিক কোড ব্যবহারের সুবিধাবলি (State the Advantages of Using Electrical Codes): মানব সভ্যতার বিকাশ ও শিল্পের দ্রুত বিস্তারের জন্য বিদ্যুতের গুরুত্ব অপরিসীম। বিদ্যুতের ব্যবহার ছাড়া শিল্প কারখানা পরিচালনা করা, মানুষের কাজকর্ম সহজসাধ্য করা, আরাম আয়েশের জন্য বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি পরিচালনা করা, আলাের প্রাচুর্যের জন্য বিভিন্ন ধরনের বাতি জ্বালানাে, সেচ কাজে পানির পাম্প চালানাে, রাইস মিল, পাখাসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি পরিচালনা করা সম্ভব না। তবে বিদ্যুতের যথাযথ ব্যবহার করতে না পারলে অথবা বিদ্যুৎ পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণ ও রক্ষণ যথাযথভাবে করতে না পারলে বিদ্যুৎ জানমালের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ বা ক্ষতিকর হতে পারে ।


বৈদ্যুতিক কোড অনুসরণ করলে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ঝুঁকি হতে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। বৈদ্যুতিক কোড ব্যবহার করলে নিম্নলিখিত সুবিধা পাওয়া যায়:

(১) বিদ্যুতায়নের সময় সঠিক কৌশল অবলম্বন করলে সুন্দর ও সাবলীল কাজ করা যায় । (২) তাপ, আলাে, পাওয়ার, রেডিও সিগনালিং ইত্যাদি ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ ব্যবহারজনিত কারণে সৃষ্ট অগ্নিকান্ড ও দুর্ঘটনা এড়ানাের জন্য এবং সম্পদ, ঘর-বাড়ি বা অট্টালিকার নিরাপদ সংরক্ষণ নিশ্চিত করার জন্য বৈদ্যুতিক কোড ব্যবহার করা একান্ত প্রয়ােজন।

(৩), বৈদ্যুতিক কোড পরিবর্তনযােগ্য বিধায় কাংক্ষিত কোড ব্যবহার করে সহজে বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা বিধানে করা যায় ।

(৪) জাতীয় কোড স্থানীয় কোডকে অনুমােদন করে। ফলে স্থানীয় কোড ব্যবহার করায় শ্রেয়। কোড সেকশন 90 - 07 অনুসৃত হওয়া উচিত।

(৫) প্রতি তিন বছর অন্তর অন্তর এটি সংস্কার করা হয় বিধায় নতুন নতুন বিধান সংযােজনের ফলে বিদ্যুৎ ব্যবহার সহজ ও নিরাপদ হয়।

(৬) বিদ্যুতায়নের কলা-কৌশল (Science and Arts) রূপান্তর করে সঠিক উপায়ে ও সুষ্ঠুভাবে এবং স্বল্পতম সময়ে বিদ্যুতায়নের কাজ সম্পন্ন করা যায়। (

৭) বৈদ্যুতিক স্থাপনার নিরাপত্তা বিধান সুনিশ্চিতকরণে বৈদ্যুতিক কোড ব্যবহারের বিকল্প নেই।

*

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post