বৈদ্যুতিক স্থাপনার ওয়্যারিং লে-আউট ও স্কেমেটিক ডায়াগ্রাম | Electrical Wiring Diagram

কোন স্থাপনায় বৈদ্যুতিক লাইন স্থাপন করার জন্য পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী যে ডায়াগ্রাম অঙ্কন করা হয় তাকে লে-আউট চিত্র বা স্কেমেটিক ডায়াগ্রাম বলে। একটি বৈদ্যুতিক স্থাপনার কাজ করার জন্য বিল্ডিং এ ইলেকট্রিক ওয়্যারিং এবং কোথায় কোন যন্ত্রপাতি বসাতে হবে তা লে-আউট ডায়াগ্রামে উল্লেখ থাকে। তাছাড়া যন্ত্রপাতিগুলাের ব্যবহারের স্থান অনুসারে সাবসার্কিটের কারেন্ট ও তারের সাইজ সঠিকভাবে নির্ণয় করা যায়।


বৈদ্যুতিক স্থাপনার ওয়্যারিং লে-আউট ও স্কেমেটিক ডায়াগ্রাম | Electrical Wiring Diagram

তাছাড়া বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি সুবিধামত অবস্থানে স্থাপন করে ব্যবহার করতে হয়। পূর্ব পরিকল্পিতভাবে লে-আউট করা না হলে যন্ত্রপতির জন্য যথােপযুক্ত স্থানে ব্যবহার করা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। স্থাপনার ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের ওয়্যারিং করা হয় যা লে-আউটে দেখানাে হয়। লে-আউট বা ওয়্যারিং ডায়াগ্রাম দেখে ইলেকট্রিশিয়ানরা সহজেই বুঝতে পারেন স্থাপনায় কোন দিক দিয়ে লাইন প্রবেশ করবে এবং কোন পথে যাবে? এক কথায় বলা যায় লে-আউট ও স্কেমেটিক ডায়াগ্রাম হচ্ছে কোন বৈদ্যুতিক স্থাপনার পরিকল্পিত নকশা যা সকল যন্ত্রপাতির অবস্থান, ওয়্যারিং এর ধরন ও যন্ত্রপাতির সংখ্যা ইত্যাদি সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরে।


বৈদ্যুতিক স্থাপনার লে-আউটে নিম্নলিখিত বিষয়গুলাে অন্তর্ভুক্ত থাকে।

(১) উক্ত নকশা অনুযায়ী বিদ্যুতায়নের জন্য কী কী মালামাল প্রয়ােজন হবে, তার পরিমাণসহ তালিকা প্রণয়ন এবং ঐ সকল মালামাল বাবদ খরচ।

(২) ওয়্যারিং এরং জন্য প্রয়ােজনীয় সামগ্রী যেমন : ক্যাবল, কঊইট, চ্যানেল, ব্যাটেন ইত্যাদি এবং এ সংক্রান্ত মালামালের পরিমাণ ও বাজার মূল্য। বিদ্যুতায়নের জন্য সমগ্র কাজটি সম্পন্ন করার জন্য প্রয়ােজনীয় শ্রম ব্যয় ও কাজ সম্পন্ন হওয়ার আনুমানিক সময় নানাবিধ বৈদ্যুতিক স্থাপনার মধ্যে ওয়ার্কশপ, সার্ভিস এন্ট্রান্স, আর্থিং সিস্টেম ইত্যাদি উল্লেখযােগ্য। এ সকল স্থাপনার জন্য বৈদ্যুতিক ওয়্যারিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কেসিং, চ্যানেল বা কভুইট ওয়্যারিং বেছে নেন কিন্তু যে ধরনের ওয়্যারিং পদ্ধতিই হােক, প্রথমেই স্থাপনার লে-আউট তৈরি করতে হয়। অতঃপর সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের লক্ষে এস্টিমেট এবং সবশেষে এস্টিমেটের সার সংক্ষেপ প্রয়ােজন হয়।


আর্থ কানেকশনের জন্য লে-আউট Sketch the Layout Plan for Earth Connection: বৈদ্যুতিক স্থাপনায় ব্যবহৃত যন্ত্র সংযুক্ত করে আর্থ ইলেকট্রোডের সাথে যুক্ত করতে হয়। নিচের চিত্রে একটি অভ্যান্তরীত। ওয়্যারিং এর লে-আউট পাতের ধাতব আবরণ, থ্রি-পিন সকেটের আর্থ পয়েন্ট, আয়রন ক্লাড মেইন সুইচ, ধাতব কন্ডই। ডিস্টিবিউশন বাের্ডের ধাতব আবরণ ইত্যাদির সাথে আর্থের নিরবচ্ছিন্ন তার (Eatth Continuity Conductor.com প্রান দেখানাে হলাে : চিত্রে E অক্ষর দ্বারা আর্থিং বােঝানাে হয়েছে।

আর্থ ইলেকট্রোড হতে আগত আর্থিং লিডের সাইজ প্রায় সকল ক্ষেত্রেই 8, 6 বা 4 SWG এর গ্যালভানাইজড তার বা। তামার তার ব্যবহার করা হয়। এখান থেকে 14, 16 বা 18 গেজের গ্যালভানাইজড আয়রন বা তামার তারের সাহায্যে। পর্যায়ক্রমে এনার্জি মিটার, মেইন সুইচ, মেইন ডিস্ট্রিবিউশন বাের্ড, ব্রাঞ্চ ডিস্ট্রিবিউশন বাের্ড বা ডিস্ট্রিবিউশন বাের্ড হয়ে পাওয়ার সুইচ বাের্ডে স্থাপিত থ্রি-পিন সকেটের আর্থ টার্মিনালকে সংযােগপূর্বক আর্থিং সম্পন্ন করা হয় ।


ইদানিং আবার আর্থ ওয়্যার হিসাবে , গেজের ইনসুলেটেড কেবল ব্যবহার করা হয়। আর্থিং লিড থেকে বেরিয়ে আসা তারটিকে “আর্থের নিরবচ্ছিন্নতার” বলে। এরূপ আর্থিং এর দরুন কোন ইলেকট্রিক্যাল অ্যাপ্লায়েন্সে বিদ্যুৎ সরবরাহের নিমিত্তে এর থ্রি-পিন। প্লগ, থ্রি-পিন সকেটে প্রবেশ করানাে মাত্র অ্যাপ্লায়েন্সটির বডি আর্থের সংঙ্গে সংযুক্ত হয়ে নিরাপদ থাকবে। মােটর আর্থিং এর জন্য সাধারণত 14 SwG তার ব্যবহার করা হয়। এছাড়া অতিরিক্ত নিরাপত্তা হিসাবে মােটরের বেস বসানাে স্থানে বেসের নাট-বল্টর সাথে আরাে দুটি আর্থিং তার লাগিয়ে সরাসরি আর্থের সাথে সংযােগ দিতে হয়।


মেইন সার্কিট এবং সাব-সার্কিট, লাইটিং লােড ও পাওয়ার লােডে Calculate Power Loads and Lighting Loads Respectively of Main Circuit and Sub-Circuits: কোন মেইন সার্কিটের লোড হিসাব করার ক্ষেত্রে পাওয়ার লােড ও লাইটিং লােডকে আলাদাভাবে হিসাব করা হয়। মেইন সার্কিটের মােট লােডকে নিয়ম অনুযায়ী সাব-সার্কিটে বিভক্ত করা হয়।


এক্ষেত্রে, প্রতিটি পাওয়ার সাব সার্কিটে 3000 ওয়াট লােড থাকবে এবং 2 টির বেশি পয়েন্ট থাকবে না। পাওয়ার সাব সার্কিটে সর্বোচ্চ ১৫ অ্যাম্পিয়ার প্রবাহিত হবে। লাইটিং লােডের ক্ষেত্রে প্রতিটি সাব-সার্কিটে সর্বোচ্চ 400 ওয়াট লােড থাকবে এবং প্রতিটি সাব সার্কিটে 10 টির বেশি পয়েন্ট | থাকবে না। প্রতিটি লাইটিং সাব সার্কিটে সর্বোচ্চ 5A কারেন্ট প্রবাহিত হবে।


এস্টিমেটের সামারি তৈরিকরণ: কোন বড় প্রজেক্ট বা প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বা বাস্তব রূপদানের জন্য যে এস্টিমেট করা হয় তা প্রথমে বিভিন্ন বিষয়ের উপর পৃথক পৃথকভাবে বিস্তারিত আকারে ভিন্ন ভিন্ন শিটে করা হয় এবং পরে এগুলাের প্রত্যেকটির মােট খরচসহ একটিমাত্র আলাদা বড় শিট প্রস্তুত করা হয়। একে সামারি বা সারসংক্ষেপ শিট বলা হয়। কারণ | এতে পৃথক পৃথকভাবে এস্টিমেট করা যেমন- ম্যাটেরিয়ালস কস্ট, লেবার কস্ট ইত্যাদির মােট খরচ দেয়া থাকে।


সামারি শিটে সমগ্র প্রজেক্ট বা প্রকল্পের বিভিন্ন খাতের ব্যয় এবং হিসাবনিকাশ লিপিবদ্ধ করা থাকে। এটি সংক্ষিপ্ত হলেও নির্ভুলভাবে থাকে। সামারি শিট এক পলক দেখলে তত্ত্বাবধায়ক বুঝতে পারেন সমগ্র কার্যাবলি রূপরেখা কেমন, তাকে পৃথক পৃথক শিটগুলাে দেখার কোন প্রয়ােজন হয় না, ফলে তার সময় অপচয় কম হয় এবং খরচও কম পড়ে


বৈদ্যুতিক মেশিন ও যন্ত্রপাতি স্থাপনের মূলনীতি Principle of Installation of Electrical Machine and Equipment: যে সকল মেশিন পরিচালনা করার জন্য বৈদ্যুতিক শক্তির প্রয়ােজন হয় অথবা যে সকল মেশিন পরিচালিত হয়ে বৈদ্যুতিক শক্তি উৎপন্ন করে তাদেরকে বৈদ্যুতিক মেশিন বলে।


যেমন : মােটর, ট্রান্সফরমার, জেনারেটর ইত্যাদি। বৈদ্যুতিক মেশিন পরিচালনার জন্য মেইন সুইচ, সার্কিট ব্রেকার ও যন্ত্রপাতির প্রয়ােজন হয়। তাছাড়া বৈদ্যুতিক, ওয়াশিং মেশিন ইলেকট্রিক ওভেন, মাইক্রোওভেন, রাইস কুকার, টোস্টার, কফি মেকার। ইলেকট্রিক ক্যাটলি, রেফ্রিজারেটর, বৈদ্যুতিক বাতি, পাখা ইত্যাদি বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়।


বৈদ্যুতিক মেশিনপত্র স্থাপন করার সময় প্রধান প্রধান যন্ত্রপাতি ও সাহায্যকারী যন্ত্রপাতির অবস্থান, সাইজ, তারের সাইজ ইত্যাদি উল্লেখপূর্বক প্রাক্কলন প্রস্তুত করা প্রয়ােজন হয়। এ অধ্যায়ে বৈদ্যুতিক মেশিন হিসাবে বৈদ্যুতিক মােটর স্থাপনের জন্য প্রয়ােজনীয় মালামাল, তারের সাইজ, মেইন সুইচ, সার্কিট ব্রেকার ও ফিউজের জন্য প্রয়ােজনীয় আকার নিধারণ করে লেআউট অঙ্কন করে প্রয়ােজনীয় এস্টিমেট করা হয়েছে।



একটি মােটরের লে-আউট প্ল্যান এবং মােটর সংযােগের সিঙ্গেল লাইন ওয়্যারিং ডায়াগ্রাম: বৈদ্যুতিক মােটর একটি কক্ষের কোন অবস্থানে বসাতে হবে এবং মােটর পরিচালনার জন্য আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি কোথায় কোথায় বসাতে হবে তা একটি চিত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয় তাকে লে-আউট বলে। উপরের চিত্রে ওয়ার্কশপে সিঙ্গেল ফেজ ও থ্রি ফেজ মােটরের অবস্থান দেখানাে হয়েছে।


লে-আউটে কভুইট, এনার্জি মিটার, (TPIC Main Switch, 3 - Phase busbar, Main Switch, MCB, 013-660 Ta, Magnetic Stariter, MCCB ও মােটরের অবস্থান দেখানাে হয়েছে। একটি মােটর ওয়্যারিং এর সিঙ্গেল লাইন ডায়াগ্রাম একটি মােটর পরিচালনার জন্য স্থাপন করার জন্য বিভিন্ন ধরনের। সাহায্যকারী যন্ত্রপাতি এবং মােটরকে যুক্ত করার পদ্ধতি অঙ্কন করা হয়।


Important for electrical motor:

মেইন সুইচের কারেন্ট বহন ক্ষমতা মােটরের ফুললােড কারেন্টের 2 গুণ ধরা হয়। মােটরের মেইন সুইচের সাইজ নির্বাচনে মােটরের স্টার্টিং কারেন্ট বিবেচনায় রাখা হয়। মােটরের ওয়্যারিং এ সাধারণত (i) হেতি গেইজ মেটাল কভুইট ও

(i) ফ্লেক্সিবল কভুইট ব্যবহার করা হয়। মােটর প্রটেকশনের জন্য ওভার কারেন্ট রিলে, MCB, MCCB, ফিউজ ইত্যাদি ব্যবহৃত হয়। থ্রি ফেজ মােটরের স্টার্টারগুলাের নাম হলাে- ডাইরেক্ট অন লাইন স্টার্টার, ম্যাগনেটিক স্টার্টার, স্টার-ডেল্টা স্টার্টার, অটো স্টার্টার ইত্যাদি। সুপারভিশন কস্ট লেবার চার্জের শতকরা 10 ভাগ ধরা হয়। ক হর্স পাওয়ার মােটর পর্যন্ত ডাইরেক্ট অন লাইন স্টার্টার ব্যবহৃত হয়।


এক হর্স পাওয়ারের উপরে ও 15 হর্স পাওয়ারের নিচে যে কোন ক্ষমতার মােটরের জন্য স্টার ডেলটা স্টার্টার ব্যবহার করা হয়। 15 HP এর উপরের ক্ষমতার মােটরের জন্য অটো-ট্রান্সফর্মার স্টার্টার ব্যবহার করা হয়।

স্লিপ রিং ইন্ডাকশন মােটর চালুর ক্ষেত্রে রােটর রেজিস্ট্যান্স স্টার্টার ব্যবহার করা হয় । মেইন সুইচের কারেন্ট রেটিং নির্ণয়ে মােটরের স্টার্টিং কারেন্ট বিবেচনায় রাখা হয়। স্টার্টিং পিরিয়ডে 3-পেজ মােটর শর্ট সার্কিটেড ট্রানফরমার সেকেন্ডারির ন্যায় আচরণ করে। ফলে এ সময় মােটর সরাসরি আরােপিত লাইন ভােল্টেজ ফুল লােড কারেন্টের তিন-চার গুণ, ক্ষেত্রবিশেষ আরও বেশি কারেন্ট নেয় ।


বৈদ্যুতিক মােটরে সাপ্লাই দেবার জন্য উপযুক্ত সাইজের পি.ভি.সি. বা ভি,আই,আর ব্যবহৃত হয়। তারের সাইজ নির্ধারণ করা হয় মােটরের রেটিং বা ক্ষমতা অনুসারে। মােটরের মেইন ক্যাবলের সাইজ নির্ধারণ করা হয় মােটরের রেটিং বা ক্ষমতা অনুসারে । লাইন কারেন্টের 300% ধরে মােটরের মেইন সুইচের সাইজ নির্ধারণ করা হয় । TPIC মেইন সুইচ। লাইন কারেন্টের 200% ধরে সার্কিট ব্রেকারের সাইজ হিসাব করা হয় ।

*

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post