বৈদ্যুতিক অভ্যন্তরীণ ওয়্যারিং Installation of Internal Electrical Wiring

বৈদ্যুতিক অভ্যন্তরীণ ওয়্যারিং Installation of Internal Electrical Wiring

গ্রাহকের বাড়িঘর, প্রতিষ্ঠান, অফিস আদালত, কলকারখানা, আঙ্গিনা ইত্যাদিকে আলােকিতকরণ ও বাতাস দেয়ার জন্য বৈদ্যুতিক বাতি ও পাখা পরিচালনার জন্য বৈদ্যুতিক শক্তি ব্যবহার করা প্রয়ােজন হয়। এ সকল লােড পরিচালনার জন্য বৈদ্যুতিক ওয়ারিং করা হয়। ছাদ, শেডের নিচে অভ্যন্তরীণ ওয়্যারিং (Internal) করা হয়। অভ্যন্তরীণ ওয়্যারিং করার জন্য বিভিন্ন ধরনের কেবল, ফিক্সার ও ফিটিংস ব্যবহার করা হয়। তাছাড়া ক্ষেত্র ও ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ধরনের অভ্যন্তরীণ ওয়্যারিং করা হয়।


বৈদ্যুতিক অভ্যন্তরীণ ওয়্যারিং

অনেকগুলাে বিষয়ের উপর ভিত্তি করে অভ্যন্তরীণ ওয়্যারিং এর বিভিন্ন ধরন ব্যবহার করা হয়। যেমন – স্থায়িত্ব, নিরাপত্তা সৌন্দর্য, খরচ এবং গ্রাহকের বাজেট ইত্যাদি। এ অধ্যায়ে অভ্যন্তরীণ ওয়্যারিং এর ধরন, বিভিন্ন ওয়্যারিং করার জন্য মালামাল ও যন্ত্রপাতির বিবরণ, মজুরি এবং বিভিন্ন ধরনের ওয়্যারিং করার পদ্ধতি আলােচনা করা হয়েছে। নিম্নে ওয়্যারিং এর ধরন ঠিক করার জন্য বিবেচ্য বিষয়সমূহের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেয়া হলাে :

(ক) স্থায়িত্ব (Durability) : গ্রাহকের ওয়্যারিং এর স্থায়িত্ব বিবেচনা করে ওয়্যারিং এর ধরন বিবেচনা করা দরকার। অর্থাৎ বিল্ডিং এর ধরন এবং ওয়্যারিং এর ধরন বিবেচনা করে যথােপযুক্ত বিবরণের মালামাল নির্ধারণ করা হয়। যেমন অস্থায়ী বিল্ডিং এর জন্য ক্লিট ওয়্যারিং উপযুক্ত কিন্তু কারখানার জন্য এটা অনুপযুক্ত বিবেচিত হয়।


(খ) নিরাপত্তা (Safety) : ওয়্যারিং এর সময় নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনা করা প্রয়ােজন। যেমন – কলকারখানায় যেখানে ধোয়া ও অগ্নি শিখা বের হয় সেখানে ক্লিট ওয়্যারিং এবং খােলা ওয়্যারিং ব্যবহার করা যাবে না।

(গ) সৌন্দর্য (Appearance) : এটা অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যেন ওয়্যারিং এর কারণে যেখানে ওয়্যারিং করা হয়। তার সৌন্দর্য নষ্ট না হয় । সুন্দর বাংলাে বা বিলাসবহুল বাড়ি ঘরে, ক্লিট ওয়্যারিং, কেসিং ওয়্যারিং, ব্যাটেন ওয়্যারিং করা হলে সৌন্দর্য নষ্ট হয় তাই তা করা হয় না। বরং এ সকল ক্ষেত্রে কনসিল্ড কভুইট ওয়্যারিং করা হয়।


(ঘ) ব্যয় (Cost) : এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নির্বাহী কর্মকর্তা অথবা ডিজাইনার কাজটি করার জন্য ব্যয় বা খরচের টাকা পাওয়া যাবে কিনা তা অবশ্যই বিবেচনা করবেন।


অভিগম্যতা (Accessibility) : ওয়্যারিং এর পরিসর বৃদ্ধি করা বা নবায়ন করার সুযােগ থাকতে হবে।

(চ) রক্ষণাবেক্ষণ খরচ (Maintenance Cost) : ওয়্যারিং এর রক্ষণাবেক্ষণ খরচ যাতে কম হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।


ইলেকট্রিক ওয়্যারিং-এর কাজে ব্যবহৃত কয়েকটি ডিভাইসের নাম নিম্নে দেওয়া হলাে:

১। টাইনি টাইপ 5 অ্যাঃ সুইচ।

২। টাইনি টাইপ 5 এ্যাঃ 2-ওয়ে সুইচ।

৩। টাইনি টাইপ বেল পুশ সুইচ।

৪। টাইনি টাইপ 3-পজিশন সুইচ।

৫। টাইনি টাইপ সিংগেল পােল সুইচ (চিনামাটির বেজ)

৬। টাইনি টাইপ 2-পিন সকেট।

৭। টাইনি টাইপ 3-পিন সকেট।

৮। ইউনিভার্সাল সকেট।

৯। টাইনি টাইপ সকেটসহ সুইচ।

১০। টাইনি টাইপ 15-অ্যাঃ সুইচ।

১১। টাইনি টাইপ 15-অ্যাঃ ওয়াল সকেট।

১২। টাইনি টাইপ বেড সুইচ।

১৩। কর্ড সুইচ।।

১৪। ফ্লাট টাইপ দুই পেট সিলিং রােজ।

১৫। টাইনি টাইপ কিট-কাট 10-অ্যাঃ।

১৬। ফ্লাট টাইপ মেইন সুইচ।

১৭। ওয়ান ওয়ে টাম্বলার সুইচ 5-অ্যাঃ।

১৮। সিংগেল পােল সুইচ (চিনামাটির বেজ) 5 অ্যাঃ ।

১৯। 2-পিন ব্যাকেলাইট পাগ 5-অ্যাঃ ।।

২০। 3-পিন ব্যাকেলাইট সকেট 5-অ্যাঃ।

২১। 3-পিন ব্যাকেলাইট পাগ 5-অ্যাঃ।।

২২। 2-পিন ব্যাকেলাইট কম্বাইন্ড সকেট ৫-অ্যাঃ।

২৩। অ্যাংগেল পােলিশড ব্রাশ ল্যাম্প হােল্ডার।

২৪। অ্যাংগেল ব্যাকেলাইট ল্যাম্প হােল্ডার।

২৫। পেনডেন্ট পােলিশড ব্রাশ ল্যাম্প হােল্ডার।

২৬। আয়রন কানেকটর ব্যাকেলাইট সকেট।

২৭। ব্যাটেন ব্যাকেলাইট ল্যাম্প হােল্ডার।

২৮। কিট-কাট ফিউজ 15, 32, 63 অ্যাঃ 240 ভােঃ ।

২৯। ডাবল পােল ব্যাকেলাইট সুইচ (চিনামাটির বেজ)।

৩০। এইচআরসি ফিউজ এবং হােল্ডার সহ।

৩১। নিউট্রাল লিংক 16, 32 অ্যাঃ 250 ভােল্ট।

৩৩। মেইন সুইচ।


অভ্যন্তরীণ ওয়্যারিং স্থাপনার ব্যাখ্যা (Explain Internal Wiring Installation): তারের সুশৃঙ্খল বিন্যাসের মাধ্যমে বাড়ি ঘর, অফিস আদালত, স্কুল-কলেজ, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, কলকারখানার বিভিন্ন ধরনের লােড নিয়ন্ত্রণকরী যন্ত্রপাতি, রক্ষণযন্ত্র ইত্যাদি সংযুক্ত করে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করার পদ্ধতিকে ওয়্যারিং বলে। যখন ঘরবাড়ি, অফিস-আদালত, দোকান-পাট, ব্যবসা বাণিজ্য বা গ্রাহকের আঙ্গিনায় লােড পরিচালনার জন্য ছাদের বা শেডের নিচে ওয়্যারিং করা হয় তখন তাকে অভ্যন্তরীণ ওয়্যারিং বলে । নিচের চিত্রে একটি অভ্যন্তরীণ ওয়্যারিং এর বিভিন্ন অংশ দেখানাে হয়েছে।


মেইন ডিস্ট্রিবিউশন বাের্ড হতে লাইন বের হয়ে সাব মেইন বেরিয়ে ডিস্ট্রিবিউশন বের্ডে যাবে। সাব ডিস্ট্রিবিউশন বাের্ড হতে বেরিয়ে লাইন যায় সুইচ বাের্ডে। সুইচ বাের্ড হতে বিভিন্ন লােডে যায়। একে ফাইনাল সাব সার্কিট বলে। যখন ফ্লাট বাড়ি বা একাধিক তলার বাড়ি ওয়্যারিং করা হয় তখন সার্ভিস মেইন হতে মেইন সুইচ এবং মেইন সুইচ হতে লাইন বাসবার চেম্বারে যায়। বাসবার চেম্বার হতে সাব বাসবার বা ডিস্ট্রিবিউশন বাের্ডে যায়। সেখান হতে সাব মেইন ডিস্ট্রিবিউশন বাের্ড হয়ে সুইচ বাের্ডে যায়। নিম্নে অভ্যন্তরীণ ওয়্যারিং এর বিভিন্ন অংশের পরিচিতি দেয়া হলাে।


বাসবার (Busbar) : বাসবার হলাে বৈদ্যুতিক পরিবাহী তামার বার (Bar) বড় বড় বাড়ি বা বহুতল ভবনে যেখানে বৈদ্যুতিক লােড অনেক বেশি সেখানে মেইন সুইচ হতে লাইনকে একটি ৰাসবারে সংযােগ দেয়া হয়। সেখান থেকে লাইনকে বিভিন্ন তলা বা ফ্লাটে নিয়ে যাওয়া হয়। মেইন সুইচ হতে যে বারে বৈদ্যুতিক লাইন সংযুক্ত করা হয় তাকে সর্বোচ্চ তলা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য আলাদা আলাদা ক্যাবল ব্যবহারের পরিবর্তে খাড়াভাবে বসানাে বাসবারকে রাইজিং মেইন বলে।


বাসবার বক্স (Busbar box) : অধিক লােডের ক্ষেত্রে লাইন মেইন সুইচ হতে বের হয়ে বাসবারে যুক্ত হয়। এ বাসবার একটি বক্সের ভিতর স্থাপন করা থাকে। ঐ বক্সকে বাসবার বক্স বলে।

সাব মেইন লাইন (Sub-main Line) : মেইন সুইচ হতে ডিস্ট্রিবিউশন বাের্ড পর্যন্ত লাইনকে সাব-মেইন লাইন বলা হয়। আর যদি বাসবার চেম্বার ব্যবহার করা হয় তবে বাসবার চেম্বার হতে বের হয়ে যে লাইন সাব বাসবার বা ডিস্ট্রিবিউশন বাের্ড। পর্যন্ত যায় তাকে সাব মেইন লাইন বলে।

সার্কিট বা মেইন সার্কিট (Circuit or Main Circuit) : বাসবার হতে সাব বাসবার পর্যন্ত লাইনকে সার্কিট বা মেইন। সার্কিট বলে।


ফাইনাল সাব-সার্কিট (Final Sub-circuit) : ডিস্ট্রিবিউশন ফিউজ বাের্ড হতে শুরু করে সুইচ বোর্ড পর্যন্ত যে লাইন যায় তাকে ফাইনাল সাব-সার্কিট বলে। অনেক সময় পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন সাৰ-বাসবার চেম্বার বলে। চেম্বার হতে যখন লাইন সরাসরি লােডে যায় তখন তাকে ফাইনাল সাব সার্কিট বলে। সাধারণত লাইটিং সার্কিটে একটি ফাইনাল সাব-সার্কিটে সর্বোচ্চ 10টি পয়েন্ট বা 800 ওয়াট লােড ব্যবহার করা হয়। আর পাওয়ার সার্কিটের ক্ষেত্রে প্রতিটি ফাইনাল সাব-সার্কিটে সর্বোচ্চ 2 টি পয়েন্ট বা 2000 ওয়াট পর্যন্ত লােড যুক্ত থাকে।


ওয়্যারিং পদ্ধতি (Wiring System) : সাধারণত তিন পদ্ধতিতে ওয়্যারিং করা হয় । যথা :

(i) লুপিং ইন সিস্টেম (Looping in system)

(ii) জয়েন্ট বক্স সিস্টেম (Joint box system)

(iii) রিং সিস্টেম (Ring system). এ ছাড়াও জয়েন্ট বক্স সিস্টেমের অনুরূপ ট্রি সিস্টেম (Tree system) নামক আরেকটি বণ্টন ব্যবস্থার প্রচলন রয়েছে, যা সাধারণত বহুতল ভবনে ব্যবহার হতে দেখা যায়। নিচে ওয়্যারিং পদ্ধতিগুলাে সংক্ষেপে বর্ণনা করা হলাে।

(i) লুপিং ইন পদ্ধতি (Looping in systen) : এ পদ্ধতিতে লুপ সিস্টেমের বাইরে কোন জয়েন্ট করা হয় না এবং কোন জয়েন্ট বক্সও থাকে না। সুইচ বাের্ড থেকে প্রতিটি পয়েন্টে আলাদা কেবল ব্যবহার করে এ ধরনের ওয়্যারিং করা হয়। এতে ইনসুলেশন ভাল থাকে এবং দুর্ঘটনার সম্ভাবনাও অনেকাংশে কমে যায়।


সুইচ ও সিলিং রােজসহ লুপিং ইন পদ্ধতি উদাহরণস্বরূপ, মেইন সুইচ ও দুটি লােড পয়েন্টের মধ্যে ওয়্যারিং করতে হবে। তাহলে মেইন সুইচ থেকে ফেজের। তার দুটি সুইচের এক প্রান্তে এসে লাগবে। অনুরূপভাবে, সুইচ দুটির অপর প্রান্ত হতে তার বের হয়ে দুটি সিলিং রােজের এক প্রান্তে এসে যুক্ত হবে। আর সিলিং রােজের অপর প্রান্তদ্বয় হতে তার বের হয়ে যথারীতি নিউট্রালের সাথে। যুক্ত হবে। সমগ্র ওয়্যারিং প্রণালিটি লুপের নিয়ম অনুসরণ করে বিধায় এ পদ্ধতিকে লুপিং ইন সিস্টেম বলা হয়। উপরের চিত্রে উপরােক্ত ওয়্যারিং প্রণালির সংযােগ দেখানাে হয়েছে। লুপিং-ইন সিস্টেমের আরাে কিছু উপায় রয়েছে। যেমন :


(১) সুইচ বাের্ড লাইনের তার লুপ করে এবং নিউট্রাল তারের সাথে বাতি, পাঁখা ইত্যাদির সংযােগ লুপ করে।

(২) তিন টার্মিনাল এবং একটি কানেক্টর বিশিষ্ট সিলিং রােজে লাইন ও নিউট্রাল তার লুপ করে।

(৩) সুইচ হতে লাইন ও নিউট্রাল উভয় ফিডস্ (Feeds) লুপ করে।


জয়েন্ট বক্স সিস্টেম ওয়্যারিং Joint Box system wiring): ওয়্যারিং এর গমন পথে প্রয়ােজন মােতাবেক

তার জয়েন্ট করে ও যথাযথভাবে জয়েন্ট বক্স বসিয়ে যে ওয়্যারিং করা হয় তাকে জয়েন্ট বক্স সিস্টেম ওয়্যার বনে তারের জয়েন্টগুলাে জয়েন্ট বক্সেই করা হয়। লুপ ওয়্যারিং এর তুলনায় জয়েন্ট বক্স ওয়্যার হয়। লুপ ওয়্যারিং এর তুলনায় জয়েন্ট বক্স ওয়্যারিং এ তার কম লাগে। তবে এ পদ্ধতিতে ওয়্যারিং এ দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা বেশি থাকে। হিসাব করে - ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা বেশি থাকে। হিসাব করে দেখা গেছে, শহর এলাকায় অগ্নিজনিত দুর্ঘটনা যত ঘটে তার 80% ঘটে ইলকট্রিক শট থেকে। আর ইলেকট্রিক তম 50% ঘটে ২লকট্রক শট থেকে। আর ইলেকটিক শট সার্কিটের 90% হয় জয়েন্ট গোলমালে। কাজেই হাউজ ওয়্যারিং এ যতদূর সম্ভব খােলা ওয়ারিংকে এড়িয়ে চলা যুক্তিসঙ্গত।


রিং ওয়্যারিং (Ring system wiring) : এ সিস্টেমে এক জোড়া তার মেইন বাের্ড হতে সবগুলাে কক্ষ ঘরে পুনরায় মেইন বাের্ডে ফিরে আসে। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি সিলিং রােজ ও প্লাগের জন্য আলাদা আলাদা ফিউজের প্রয়ােজন হয়। ওয়্যারিংয়ের রিং মেইন সিস্টেম এ পদ্ধতিতে কারেন্ট উভয় দিক হতে সংযুক্ত থাকে বিধায় তার কম লাগে। তবে এ পদ্ধতিতে ব্যবহৃত প্রাগ, সিলিং রােজ ও আনুষঙ্গিক উপকরণের খরচ বেশি হওয়ায় সাধারণত এ সিস্টেম ব্যবহার করা হয় না।


ট্রি সিস্টেম ওয়্যারিং (Tree System Wiring) : এ সিস্টেম অনেকটা জয়েন্ট বক্স সিস্টেমের মতই। এ পদ্ধতিতে রাইজিং মেইন (Rising main) মেইন সুইচ বোের্ড হতে প্রতি তলায় সংযােজিত থাকে। রাইজিং মেহন। সাধারণত তামা বা অ্যালুমিনিয়ামের পাত দ্বারা তৈরি যা মেইন সুইচ হতে প্রতি তলায় উর্ধমুখী গমন করে। আর্থিক

সাশয়ের জন্য রাইজিং মেইনকে লােড সেন্টার হিসেবে ডিজাইন করা হয়। প্রতিটি তলায় সাব-মেইন বাের্ডের সাথে। | রাইজিং মেইন সংযুক্ত থাকে। বহুতল ভবনে এ ধরনের সিস্টেম ব্যবহার করা হয়।


অভ্যন্তরীণ ওয়্যারিং এর নিয়মাবলি (Rules of Internal wiring) :

১ প্রতিটি বৈদ্যুতিক স্থাপনার যেখানে সাপ্লাই তার প্রবেশ করে সেখানে দুই পােল মেইন সুইচ এবং একটি ফিউজ ইউনিট। বসিয়ে স্থাপনার নিরাপত্তা বিধান করতে হয়। দুই তার স্থাপনায় একটি পােল যদি স্থায়ীভাবে আর্থ করা হয় তবে ঐ পােলে কোন ফিউজ, সুইচ বা সার্কিট ব্রেকার বসাতে হয় না।

২। এমন সাইজের পরিবাহী ব্যবহার করতে হবে যাতে নিরাপদে লােড কারেন্ট বহন করতে পারে।

৩। সকল দিক বিবেচনায় নিরাপদ এমন পরিবাহী ব্যবহার করতে হবে।

৪। প্রতিটি সাব সার্কিটকে ডিস্ট্রিবিউশন ফিউজ বাের্ডে সংযুক্ত করতে হবে।

৫। প্রতিটি লাইন (ফেজ বা পজেটিভ) প্রয়ােজনমত যখাযথ রেটিং এর ফিউজ দ্বারা নিরাপদ রাখতে হবে।

৬। সুইচ বাের্ডের নিচের লাইন মেঝে হতে 1.25 মি. উপরে বসাতে হবে।

৭। (ক) সকল প্লাগ এবং সকেট আউটলেট 3-পিন টাইপের হতে হবে। সকেটের উপযুক্ত পিনটি স্থায়ীভাবে আর্থিং এর সাথে সংযুক্ত করতে হবে ।

(খ) প্রতি কক্ষের উপযুক্ত স্থানে প্রয়ােজন মত সুইচ ও সকেট আউটলেট বসাতে হবে যাতে লাইনে বেশি দৈর্ঘ্যের ফ্লেক্সিবল। কর্ডের ব্যবহার এড়ানাে যায়।

(গ) সকল লাইট ও ফ্যানের সার্কিটে শুধুমাত্র 3-পিন 5 অ্যাম্পিয়ার এর সকেট ব্যবহার করতে হবে এবং পাওয়ার লােডে 3পিন 15 অ্যাম্পিয়ার সকেট ব্যবহার করতে হবে।

(ঘ) 2-পিন সকেটে ব্যবহৃত কোন অ্যাপ্লায়েন্সের জন্য 15 অ্যাম্পিয়ার এর বেশি কারেন্ট প্রয়ােজন হলে সেখানে উপযুক্ত মানের 2-পােল সুইচ ব্যবহার করতে হবে। কোন অবস্থাতেই 15 অ্যাম্পিয়ারের বেশি রেটিং এর সকেট ব্যবহার করা যাবে না।

(ঙ) সকেট আউটলেটগুলাে অ্যাপ্লায়েন্স/ যন্ত্রপাতির ঠিক পিছনে তাদের কেন্দ্র ববাবর বসানাে যাবে না। সকেট আউটলেটগুলাে মেঝে থেকে 25 cm অথবা 1.30 cm উপরে স্থাপন করতে হবে।

(চ) বাথরুমে কোন সকেট মেঝে হতে 1.30 m এর কম উচ্চতায় বসানাে যাবে না।

(ছ) রান্নাঘরের আকারের উপর নির্ভর করে একটি বা দুটি 3-পিন 15 অ্যাম্পিয়ার সকেট আউটলেট বসাতে হবে। খাবার ঘর, শয়নকক্ষ, বসার কক্ষের প্রতিটিতে প্রয়ােজনমত একটি করে 3 পিন 15 অ্যাম্পিয়ার সকেট আউটলেট বসানাে যাবে।


৮। (ক) যদি অন্য কোন প্রয়ােজন না হয় তবে সকল ইনক্যান্ডিসেন্ট ল্যাম্প মেঝে হতে 2.5 মি. উচ্চতায় বসাতে হবে। (খ) বিশেষ কোন কারণ না থাকলে সিলিং ফ্যানগুলাে মেঝে হতে 2.75 মিটার উচ্চতায় লাগাতে হবে ।

৯। (ক) বাতি ও পাখা সার্কিটে বসানাে যাবে। প্রতি সাব সার্কিটে বাতি, পাখা এবং সকেট আউটলেটের সংখ্যা 10 এর বেশি হবে না। প্রতি সাব সার্কিটের মােট লােড 800 ওয়াটের বেশি হবে না। যদি পাখার জন্য আলাদা সার্কিট ব্যবহার করা হয় তবে প্রতি সার্কিটে 10 টির বেশি পাখা ব্যবহার করা যাবে না। প্রাতাটি পাওয়ার সাব-সার্কিটে সর্বোচ্চ 3000 ওয়াট লােড ব্যবহার করা যাবে। কোন অবস্থাতেই একটি পাওয়ার সাবসাকিটে 2 টির বেশি পয়েন্ট ব্যবহার করা যাবে না। ১০। আথ কন্ডাকটর এর উপর কোন অবস্থাতেই ফিউজ বা সুইচ ব্যবহার করা যাবে না।


১১। জাতটি সার্কিট বা যন্ত্রপাতিকে আলাদাভাবে একেকটি সুইচ দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

১২। প্রতিটি যন্ত্রপাতি অনুমােদিত মান অনুযায়ী উপযুক্ত স্থানে ব্যবহার করতে হবে।

৩। যে কোন বিল্ডিং এ লাইটিং সার্কিট এবং পাওয়ার সার্কিট আলাদা করতে হবে।

১৪। তিন ফেজ চার তার পদ্ধতিতে প্রতি ফেজে লােভের পরিমাণ সমান হতে হবে। স্থাপনার ক্যাপাসিটির বাইরে গেলে অথবা আর্থিং এর ব্যবস্থা না থাকলে আর কোন নতুন লােডযুক্ত করা যাবে না। রুমে ব্যবহৃত বাতির হােল্ডার ইনসুলেটিং ম্যাটেরিয়ালের হতে হবে এবং তা নিরাপত্তা কভার দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। Earth কননিউটি কন্ডাকটরের সাইজ 770.915 mm এর কম হওয়া যাবে না।


Insulatin অকার্যকর হওয়া অথবা লিকেজজনিত কারণে তড়িতাহত হওয়ার হাত হতে বাঁচার জন্য সকল ওয়্যারিং এর। লাশথ বা কভুইট অথবা গ্রাহকের ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির ধাতব অবরণ যথাযথভাবে আর্থিং করতে হবে। সাব-সাকিটকে ফিউজ বা স্বয়ংক্রিয় সার্কিট ব্রেকার দ্বারা অতিরিক্ত কারেন্টের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে বিপদ এড়ানাের জন্য অভ্যান্তরীণ ওয়্যারিং এ ইনসুলেটেড ক্যাবল ব্যবহার করতে হবে। হাপনার ওয়্যারিং এর কাজ শেষ হলে বিদ্যুৎ সংযােগ দেয়ার পূর্বে অবশ্যই টেস্ট করতে হবে।


প্রধান অভ্যন্তরীণ ওয়্যারিং এর বর্ণনা (Describe The Main Types of Internal Wiring): স্থাপনার ধরন, দীর্ঘস্থায়ীত্ব, সৌন্দর্য, নিরাপত্তা, গ্রাহকের পছন্দ, খরচ ইত্যাদি বিষয়ের মধ্য হতে কাক্সিক্ষত গুণাগুণ রাখার জন্য নিম্নলিখিত পদ্ধতির অভ্যান্তরীণ ওয়্যারিং করা হয়।

(১) ক্লিট ওয়্যারিং

(২) কেসিং ওয়্যারিং

(৩) ব্যাটেন ওয়্যারিং

(৪) টিআরএস ওয়্যারিং (Tough Rubber Sheathed wiring) বা পিভিসি শিথেড ওয়্যারিং (Poly vinyle Chloride Sheathed wiring) (৫) এমএস ওয়্যারিং (Metal Sheathed wiring)।

(৬) কভুইট ওয়্যারিং (Conduit wiring)

(ক) সারফেস কভুইট ওয়্যারিং (Surface conduit wiring)।

(খ) কনসিল্ড কভুইট ওয়্যারিং (Concealed conduit wiring)।


(৭) এমআইসিএস ওয়্যারিং (Mineral Insulated Copper Covered Wiring)।

(৮) ফ্লেক্সিবল কভুইট ওয়্যারিং (Flexible conduit wiring)। (৯) চ্যানেল ওয়্যারিং (Channel wiring) (১০) অ্যান্ডার প্রাস্টার ওয়্যারিং (Under plaster wiring) বাংলাদেশে ইতিপূর্বে ব্যাটেন ওয়্যারিং এর ব্যাপক প্রচলন ছিল। তাছাড়া ক্ষেত্র বিশেষে ক্লিট ওয়্যারিং ও কেসিং। ওয়্যারিং প্রচলিত ছিল। বর্তমানে চ্যানেল ওয়্যারিং, সারফেস কভুইট ওয়্যারিং এবং কনসিল্ড ওয়্যারিং ব্যবহৃত হচ্ছে।

নিম্নে বিভিন্ন ধরনের অভ্যন্তরীণ ওয়্যারিং স্থাপনার বর্ণনা দেয়া হলাে ।


চ্যানেল ওয়্যারিং (Channel wiring): পিভিসির তৈরি লম্বা লম্বা ফাঁপা চ্যানেল ব্যবহার করে এ ওয়্যারিং করা হয় বলে একে চ্যানেল ওয়্যারিং বলা হয়। তারের সংখ্যা ও সাইজ অনুযায়ী 12.7 মিমি, 19.05 মি মি, 25.4 মিমি, 38.1 মিমি, 50.8 মিমি, 63.5 মিমি ইত্যাদি প্রস্থের চ্যানেল ব্যবহার করে চ্যানেল ওয়্যারিং করা হয়। বাজারে এ সব সাইজের চ্যানেল সহজলভ্য। এ ধরনের ওয়্যারিং এ বাইরে থেকে কোন ক্যাবল দৃষ্টিগােচর হয় না। শুধুমাত্র সাদা রং এর পিভিসি চ্যানেল দেখা যায়। সেজন্য যেখানে সৌন্দর্যের বিষয় বিবেচনা করা হয় এবং খরচও কম করতে হবে। সেখানে এ ধরনের ওয়্যারিং করা হয়। খরচ, সৌন্দর্য ও দীর্ঘস্থায়ীত্ব বিবেচনা করার কারণে বর্তমানে বিভিন্ন অফিসআদালত, বাড়িঘর, ব্যবসা বাণিজ্য কেন্দ্র, বাসগৃহ ইত্যাদি স্থানে চ্যানেল ওয়্যারিং করা হয়। চ্যানেল ওয়্যারিং করার পদ্ধতি । চ্যানেল ওয়্যারিং করার জন্য নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলাে অনুসরণ করতে হয়।


১। প্রথমে বাড়ির লে আউট প্লান দেখে ওয়্যারিং এর প্লান অঙ্কন করতে হবে ।

২। ওয়্যারিং লে আউট প্লান অনুযায়ী বাড়ির সমস্ত দেয়াল ও সিলিং এ ওয়্যারিং এর পথ মােটা সুতাতে রঙিন চক পাওডারের গুড়া লাগিয়ে দাগ টানতে হবে এবং পয়েন্টের স্থানগুলাে যেমন : সুইচ বাের্ড, ফ্যান, বাতি ইত্যাদির জন্য দেয়ালে এবং ছাদে সিলিং রােজ এর স্থান দাগাঙ্কিত করতে হবে।

৩। এরপর দাগাঙ্কিত স্থানের উপর 60 cm (2 ফুট) অন্তর অন্তর ড্রিল মেশিন দিয়ে ছিদ্র করতে হবে।

৪। ছিদ্রের মাঝে রয়েল প্রাগ দিয়ে চ্যানেলের নিচের অংশ (বেজ) আটকাতে হবে।


৫। ওয়্যারিং যেখানে বেঁকে যাবে, সেখানে চ্যানেলের সঙ্গে প্রয়ােজনীয় মাপের কর্ণার লাগাতে হবে। লাগানাের জন্য এক্ষেত্রে পেরেক ব্যবহার না করে অ্যাডহেসিভ ব্যবহার করা উচিত।

৬। এবার সাব-সার্কিট ফিউজ বক্স ইত্যাদি লাগাতে হবে।

৭। চ্যানেল দেয়ালে লাগানাে হয়ে গেলে প্রতি পয়েন্টের জন্য একটি করে প্রয়ােজনীয় সাইজের বক্স (ব্লক) দেয়ালে আটকাতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে কোন বক্সের প্রান্ত দিয়ে ওয়্যারিং ভিতরে প্রবেশ কর চ্যানেলের সাইজ অনুযায়ী বক্সের প্রান্ত কর্তনপূর্বক চ্যানেলের মাথা মসৃণ করে বক্সের মধ্যে ঢুকিয়ে আটকাতে হবে।


*

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post