বৈদ্যুতিক স্থাপনার পরীক্ষাকরণ | Testing of Electrical Installation

কোন বৈদ্যুতিক স্থাপনার কাজ শেষ হবার পর অথবা পুরাতন বৈদ্যুতিক স্থাপনার নতুন কোন সংযােজন বা পরিবর্তনের পর। বিদ্যুৎ সরবরাহ দেয়ার পূর্বে স্থাপনার কাজসমূহ বিদ্যুৎ বিধি অনুসারে সম্পন্ন হয়েছে কিনা এবং স্থাপনার প্রতিটি অংশ। জুটিমুক্ত ও নিরাপদ কিনা, সেটি নিশ্চিত করার জন্য স্থাপনাকে পরীক্ষা করা অত্যাবশ্যক। শুধু পরীক্ষায় যথেষ্ট নয়, নিরাপত্তা।


বিধানের বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণে সরবরাহ দেয়ার পর্বেই অধিক নিশ্চিত হবার জন্য পরিদর্শন প্রক্রিয়ার কাজ। সম্পন্ন হতে হয়। আথিং করার পূবে এবং পরেও কিছু কিছু টেস্ট করা দরকার হয়। যে কোন ওয়্যারিং এর ক্ষেত্রে কিছু কিছু ত্রুটি থাকে। ঐ ত্রুটিগুলাে নিম্নরূপ :

১। শর্ট সার্কিট ফল্ট

২। ওপেন সার্কিট ফন্ট

৩। সুইচ ও ফিউজ নিউট্রালে লাগানাে

৪। ক্যাবলের ইনসুলেশন রেজিস্ট্যান্স যথাযথ না থাকা।

৫। আর্থিং এর তারের কনটিনিউইটি না থাকা

৬। আর্থ রেজিস্ট্যান্স বেশি থাকা ইত্যাদি।


এ সকল ত্রুটির যে কোন একটি ত্রুটি থাকলে তা দূর না করে সার্কিটে বিদ্যুৎ সরবরাহ দেয়া যাবে না। ত্রুটি মুক্ত করা না হলে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিপদ ঘটার সম্ভাবনা থাকে। তাই বৈদ্যুতিক সরবরাহ দেয়ার আগে ওয়্যারিংকে অবশ্যই টেস্ট করতে হবে। পরীক্ষা বা টেস্টের মাধ্যমে স্থাপনার প্রয়ােজনীয় বৈদ্যুতিক গুণাবলি সম্পর্কে জানা যায় । যেমন- স্থাপনার যথাযথ ইনসুলেশন রেজিস্ট্যান্সের মান পরীক্ষা করা ইত্যাদি। পরীক্ষার কাজে বিভিন্ন প্রকার টেস্টিং ইনস্ট্রমেন্ট ব্যবহার করা হয়।


বৈদ্যুতিক স্থাপনার কার্যক্রম সম্পর্কে নিশ্চিত হবার লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি পরীক্ষা করতে হয়। স্থাপনার ত্রুটি বিচ্যুতি চিহ্নিত করার জন্য স্থাপনা পরিদর্শন করা হয় । যেমন- একটি সুইচের বেজ ফাটা থাকলে সেটি কখনই পরীক্ষাই ধরা পড়বে না, কিন্তু দৃষ্টি গােচর হবে। আবার যান্ত্রিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত একটি আর্থিং লিডের কনটিনিউটি টেস্ট করে চমৎকার ফলাফল পাওয়া গেলেও পরিদর্শন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আশংকামুক্ত হওয়া যায়।


একটি ভবনের ওয়্যারিং সমাপ্তির পর টেস্টের বর্ণনা-Tests to be carried Out After Completion of Wiring of a Building: একটি ভবনের ওয়্যারিং সমাপ্ত হলে ঐ ভবনে বিদ্যুৎ সরবরাহ দেয়ার পূর্বে ওয়্যারিং ত্রুটি মুক্ত এবং নিরাপদ আছে কিনা তা পরীক্ষা করার জন্য নিলিখিত টেস্ট করা হয় । যথা :

(১) নিরবচ্ছিন্নতা বা কনটিনিউইটি টেস্ট (Continuity test)

(২) ইনসুলেশন বা ইনসুলেশন রেজিস্ট্যান্স টেস্ট

(i) কোর ও আর্থের মধ্যে ইনসুলেশন টেস্ট

(ii) পরিবাহীর মধ্যে ইনসুলেশন টেস্ট

(৩) পােলারিটি টেস্ট

(৪) আর্থ টেস্ট (Earth test)।

(৫) আর্থ কনটিনিউজটি কন্ডারের রেজিস্ট্যান্স টেস্ট (Resistance test of Earth Continuity Conductor) বিভিন্ন টেস্টের বর্ণনা ।। (১) নিরবচ্ছিন্নতা বা কনটিনিউইটি টেস্ট (ক) তারের কনটিনিউইটি টেস্ট যখন ওয়্যারিং এর কাজ কিছুটা এগিয়ে যায়, তখন তারের ভিন্ন ভিন্ন টুকরার মধ্যে কনটিনিউটি আছে কিনা তা টেস্ট করা হয়ে থাকে।


তা না হলে বাতি, ফ্যান ইত্যাদি লাগনাের পর ঐ লােডগুলাে নাও চলতে পারে একই কন্ডইট কিংবা কেসিং এর মধ্য দিয়ে যখন একাধিক ক্যাবল টানা হয় তখন সেখানে এই টেস্ট করা। হয় একটি ভাই সেলের সঙ্গে একটি বৈদ্যুতিক ঘণ্টা সিরিজে কানেকশন করে সেলের এক টার্মিনাল থেকে আর একটি ঘূণ্টার অন্য টার্মিনাল থেকে একগাছা করে লম্বা তার নিয়ে যেতে হয়। প্রয়ােজন মত সেলের সংখ্যা বাড়ানাে যেতে পারে। তারগুলাে এতটা লম্বা হতে হবে যাতে ওয়্যারিং এর শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পৌছে। ড্রাই সেল আর ঘণ্টার সাহা তাবের কনটিনিউইটি টেস্ট করা হচ্ছে, এ টেস্টের সাহায্যে এক সার্কিট থেকে অন্য সার্কিট বেছে নিতে পারা যায়।


এখন এ টেস্টিং সরঞ্জামের দুই প্রান্ত ওয়্যারিং এর তারের দুই প্রান্তে ঠেকালে যদি ঘন্টা বেজে উঠে তবে বুঝতে হৱে ওয়্যার এর তারের মধ্যে কনটিনিউইটি আছে । আর যদি ঘণ্টা না বাজে তবে বুঝতে হবে তারের কনটিনিউজটি ঠিক নেই। এ টেস্ট মেগারের সাহায্যেও করা যায়। মেইন সুইচের দুই টার্মিনালে সংযােগ দিয়েও টেস্ট করা যায়। এতে তারের দৈর্ঘ্য কম লাগে।


কভুইট কিংবা তারের সীসার আবরনের মধ্যে কনটিনিউইটি টেস্ট : যখন কভুইট ওয়্যারিং কিংবা সীসার আবরণযুক্ত তারের ওয়্যারিং করা হয় তখন এ টেস্ট করা হয়। আমারড ক্যাবল এর আরমার এর কনটিনিউইটির জন্য এ টেস্ট করা হয়। বাড়ির ওয়্যারিং এর ক্ষেত্রে আর্থ কনটিনিউইটি এমন হওয়া উচিত যেন বাড়ির দূরত্ব পয়েন্ট হতে আর্থ ইলেকট্রোত পর্যন্ত কভুইট বা সীসার আবরণের রেজিস্ট্যান্স 1 ওহমের বেশি না হয় । আর্থ লিডের শেষ প্রান্ত ভাল করে শিরীষ কাগজ দিয়ে ঘষে চকচকে করতে হয় এবং চকচকে স্থানে ক্ল্যাম্প লাগিয়ে টেস্টিং তারের একপ্রান্ত এঁটে দিতে হবে।


এ তারকে একটি লাে রেঞ্জ অ্যামিটারের পজিটিভ টার্মিনালের সঙ্গে এটে দিতে হবে এবং অ্যামিটারের নেগেটিভ টার্মিনালের একটি 4 ভােল্ট ব্যাটারির নেগেটিভ টার্মিনালের সঙ্গে সিরিজে সংযুক্ত করতে হবে। এবার ব্যটারির পজিটিভ টার্মিনাল হতে অন্য একগাছা তার নিয়ে দূরের প্রান্তের কভুইট কিংবা তারের আবরণের সাথে ক্ল্যান্স দিয়ে আটকাতে হবে। এখন অ্যামিটারে কারেন্ট রিডিং পাওয়া যাবে। এ কারেন্ট থেকে কভুইট কিংবা আবরণ আর আর্থ তারের সমবেত রেজিস্ট্যান্স নির্ণয় করা যাবে।


যদি তারের রেজিস্ট্যান্স 0.4974 ওহম হয় তবে মােট রেজিস্ট্যান্স হবে (1 + 0.4974) ওহম = 1.4975 ওহম। অ্যামমিটার রিডিং হবে = 1.574 = 2.67 অ্যাম্পিয়ার । এর কম কারেন্ট দেখলে বুঝতে হবে কভুইটের রেজিস্ট্যান্স 1 ওহমের বেশি আছে। দুটো স্টোরেজ সেল একটি অ্যামিটারের সঙ্গে সিরিজে সংযুক্ত করে দূর প্রান্তের কভুইট কিংবা তারের উপরের সীসার আবরণ ও আর্থ-লীডের প্রান্তের মধ্যে সংযুক্ত করে কভূইট বা সীসার আবরণের রেজিস্ট্যান্স বের করা হচ্ছে।


ইনসুলেশন রেজিস্ট্যান্স টেস্ট :

নিচের চিত্রানুযায়ী প্রথমে মেইন সুইচ বন্ধ করে কাট আউট ফেটে হবে। এমতাবস্থায় সুইচগুলাে "ON" অবস্থায় থাকবে।
দুই তারের মধ্যে ইনসুলেশন রেজিস্ট্যান্স টেস্ট এবার মেগারের L. ও E প্রান্তের দুটি তার যথাক্রমে ফেজ ও নিউট্রালের সাথে সংযােগ করতে হবে । অতঃপর মেগারের হাতলটি প্রয়ােজনীয় গতিতে ঘুরালে। মেগারের বিক্ষেপণ কাঁটাটি শূন্য দাগে না এসে যদি ন্যূনতম ইনসুলেশন রেজিস্ট্যান্স এক মেগা ওহমস (1 MS2) দেখায়, তা হলে বােঝা যাবে যে ওয়্যারিং এর ইনসুলেশন রেজিস্ট্যান্স (R) ঠিক আছে। আর যদি এক মেগা ওহমস অপেক্ষা কম বা শূন্য (Zero) দেখায় তবে বুঝতে হবে যে। ওয়্যারিং এর মধ্যে কোথাও লিকেজ বা শর্ট আছে। যে কোন ওয়্যারিং দুই তারের মধ্যে 'R' নির্ণয়ের জন্য নিচের Thumb rule টি প্রয়ােগ হয়ে থাকে।

ইনসুলেশন রেজিস্ট্যান্স R = পয়েন্ট সংখ্যা অতএব, যদি কোন সার্কিট বা সমস্ত বাড়িতে 20 টি পয়েন্ট থাকে, তবে এ টেস্টে তারের মধ্যে ইনসুলেশন রেজিস্ট্যান্স মেগারে যত রিডিং দেখানাে তা যেন ২৪ = 2.5 M2 এর কম না হয়। মনে রাখতে হবে যে, এ টেস্ট করার সময় সমস্ত সুইচ ‘ON’ করে দিতে হবে, আর বাড়ির পয়েন্টগুলােতে বাতি, ফ্যান বা অন্য কোন সরঞ্জাম লাগানাে থাকবে না। অপরদিকে লােড যুক্ত করে সুইচ অফ করে টেস্ট করা হলে রেজাল্ট পাওয়া যাবে না। প্রথম ক্ষেত্রে সমস্ত ওয়্যারিং এর ইনসুলেশন রেজিস্ট্যান্সই কারেন্ট প্রবাহে বাধা হয়ে দাঁড়াবে আর দ্বিতীয় ক্ষেত্রে কারেন্ট প্রবাহের জন্য লিকেজ পথ সৃষ্টি হবে।

বৈদ্যুতিক স্থাপনার পরীক্ষাকরণ | Testing of Electrical Installation

কন্ডাক্টর ও আর্থের মধ্যে ইনসুলেশন রেজিস্ট্যান্স টেস্ট : ওয়্যারিং এর সকল কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার পর এ টেস্ট করা হয়।

টেস্টে প্রাপ্ত ফলাফল সন্তােষজনক হলেই তবে সাপ্লাই মেইনের সাথে সার্কিট সংযােগ করা হয়। চিত্রানুযায়ী প্রথমে মেইন। সুইচ বন্ধ করে কাট আউট খুলে নিতে হবে এবং ওয়্যারিং এর দুটি টার্মিনালকে একটি মােটা তার দ্বারা শট করে নিতে হবে । এ সময় সুইচগুলাে ‘ON’ অবস্থায় এবং লােডগুলাে সংযুক্ত অবস্থায় থাকবে।


অতঃপর একটি তার এবং মেগারের টার্মিনাল। একত্রে আর্থিং পাইপের সঙ্গে সংযােগ দিতে হবে। অন্যদিকে মেগারের টার্মিনাল ওয়্যারিং এর শর্ট লাইনের সাথে সংযােগ। দিতে হবে। এমতাবস্থায় মেগারের হাতলটি প্রয়ােজনীয় গতিতে ঘুরালে মেগারের বিক্ষেপণ কাটি শূন্য দাগে না সে।


প্রয়ােজনীয় মেগা ওহমস (M2) দেখায় তাহলে ফেজ ও আর্থিং তারের মধ্যে ইনসুলেশন রেজিস্ট্যান্স সঠিক আছে বলে বুঝতে হবে। আর যদি শূন্য দেখায়, তাহলে বুঝতে যে, ওয়্যারিং এর কোথাও ফেজ ও আর্থিং এর সাথে সংযােগ আছে বলে ধরে নিতে হবে। বাড়ির ওয়্যারিং এর জন্য কন্ডাক্টর ও আর্থের মধ্যে রেজিস্ট্যান্স ন্যূনতম 1M2 থাকলে সারাই দেয়া যেতে পারে।


পােলরিটি টেস্ট (Polarity test) : বৈদ্যতিক বিধি অনুযায়ী সব সিঙ্গেল পােল সুইচ ও কাট আউট সরবরাহ লাইনের ফেজ তারে সংহত থাকবে কি নিউট্রাল বা আর্থ তারের সাথে সংযুক্ত হবে না। যদি লাইভ তারের পরিবর্তে নিউট্রালে সুইচ বা কাট আউট বসানাে তাহলে সুইচ অফ’ বা কাট আউট খােলা অবস্থায় বাতি জ্বলবে না ঠিক, তবে সুইচ অফ রয়েছে মনে করে কোন ব্যক্তি যদি বাতি পরিবর্তন করতে কিংবা অন্য কোন কারণে পরিবাহীর সংস্পর্শে আসেন তবে ঐ ব্যক্তি মারাত্মক তড়িতাঘাত প্রাপ্ত হবে।


কাজেই নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই সকল সুইচকে ফেজ বা লাইভ তারে সংযােগ করা হয়। বস্তুত পােলরিটি টেস্টের মাধ্যমেই সুইচগুলাে যে ফেজ তারে সংযুক্ত রয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায় । পােলারিটি টেস্ট দুইভাবে করা যায়। যথা :

(i) টেস্ট ল্যাম্পের সাহায্যে

(ii) মেগারের সাহায্যে। পােলরিটি টেস্টের পদ্ধতি বর্ণণা করা হলাে :

(i) টেস্ট বাতি ব্যবহার করে পােলারিটি টেস্ট: সুইচ অফ করে পােলারিটি টেস্ট : মনে কর, কোন একটি বাতির সুইচ পরীক্ষা করা হচ্ছে।


টেস্ট ল্যাম্পের সাহায্যে পােলারিটি টেস্ট। উপরের চিত্রের মত করে টেস্ট ল্যাম্পের এক প্রান্ত লম্বা তার দিয়ে আর্থ করতে হবে। বাড়িতে যদি পানির লাইন থাকে তবে। তার সাথে টেস্ট ল্যাম্পের এক প্রান্ত আটকিয়ে আর্থিং এর কাজ করা যেতে পারে। যে সুইচ টেস্ট করতে হবে তার কাছে গিয়ে আর্থের তারের সঙ্গে টেস্ট বাতির সংযােগ করতে হবে। সার্কিটে যত ভােল্ট। সাপ্লাই দিতে হবে বাতিও তত ভােল্টের হতে হবে। এবার সুইচ অফ করে তার ঢাকনা খুলে ফেলতে হবে।

এবার টেস্ট বাতির অন্য প্রান্তের তারকে সুইচের বামদিকের টার্মিনালে টেকাতে হবে। যদি সুইচ ঠিক ফেজ তারে লাগানাে থাকে তবে এতে কেবলমাত্র টেস্ট বাতিই জ্বলবে এবং বাতিটি পূর্ণ উজ্জ্বলতায় জ্বলবে। কিন্তু যদি সুইচ নিউট্রাল তারে লাগানাে থাকে তবে। সুইচের বাঁদিকের টার্মিনালে টেষ্ট বাতি ঠেকালে বাতিটি জ্বলবে না। এবার টেস্ট বাতিটির তারকে সুইচের ডানদিকে ঠেকালে সুইচ ফেজ তারে লাগানাে থাকলে টেস্ট বাতি জ্বলবে না কিন্তু যদি সুইচ নিউট্রাল তারে লাগানাে থাকে তবে টেস্ট বাতি জ্বলবে এবং অপেক্ষাকৃত কম উজ্জ্বল ভাবে জ্বলবে।

সুইচ অন করে পােলারিটি টেস্ট করা । এক্ষেত্রেও টেস্ট ল্যাম্পের একপ্রান্ত আর্থিং করা থাকবে। এ টেস্টের সময় সুইচগুলাে অন করতে হবে। যদি সুইচ ফেজ তারে বসানাে থাকে তবে সুইচ থেকে সুইচের টেস্ট বাতি পুরাে উজ্জ্বলতায় জ্বলবে। কিন্তু যদি সুইচ নিউট্রালে বসানাে হয়ে থাকে তবে তাতে বাতি একেবারেই জ্বলবে না। ইনসুলেশন টেস্টিং মেগারের সাহায্যে সুইচের পোলারিটি টেস্ট : বাড়িতে সরবরাহ দেয়া থাকলে একটি টেস্ট বাতির সাহায্যে সিঙ্গেল পােল সুইচের পােললিটি টেস্ট করা যায়। কিন্তু ওয়্যারিংয়ের ঠিক পরেই যদি সরবরাহ দেয়া না থাকে তরে। টেস্ট বাতি দিয়ে তা করা চলে না। একটি ইনসুলেশন টেস্টিং মেগারের সাহায্যে তখন এ পরীক্ষা করতে হয়।

এ টেস্টের পদ্ধতি বর্ণনা করা হলাে : বাড়ির মেইন সুইচ বা ডিস্ট্রিবিউশন ফিউজ বাের্ডে যে তারের সঙ্গে ফিউজ বা কাট আউট লাগানাে থাকবে সে অনশ। ফেজ তার হতে হবে। প্রথমে ডিবি বা মেইন সুইচের কাছে এ ফেজ তারকে ভালভাবে আর্থের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে যে। সুইচের পােলারিটি টেস্ট করতে হবে দেখতে হবে তার পয়েন্টে যেন কোন লােড লাগানাে না থাকে। পরে ঢাকনা খুলে ফেলে সুইচটিকে অন করতে হবে।


এবার মেগারের দুই টার্মিনালের সঙ্গে ইনসুলেট করা দুগাছ তার লাগিয়ে তারের খােলা মাথার ইনসুলেশন কিছুটা কেটে ফেলে কন্ডাক্টর বের করে নিতে হবে। একটি তারের খােলা মাথা আর্থ তারের সঙ্গে ভালভাবে জুড়ে দিয়ে অন্য তারটির খােলা মাথা সুইচের যে কোন টার্মিনালের সঙ্গে ঠেকিয়ে মেগারের হাতল, ঘুরানাে হলে কাটা শূন্য (0) পাঠ দেখাবে। আর যদি কাটা ইনফিনিটি (০) বা অন্য কোন উচ্চমানের রেজিস্ট্যান্স নির্দেশ করে, তবে বুঝতে হবে সুইচ ফেজ তারের উপর বসানাে নেই। নিউট্রাল বা অন্য কোন তারে সুইচ বসানো হয়েছে অর্থাৎ পােলারিটি ঠিক নেই।


আর্থ টেস্ট: মেগার আর্থ টেস্টারের সাহায্যে আর্থ ইলেকট্রোডের রেজিস্ট্যান্স মাপা হয়। এ ইনস্ট্রমেন্টটি বস্তুত একটি ওহমমিটার ও একটি ডিসি জেনারেটরের সমন্বয়ে গঠিত। জেনারেটর ঘােরাবার জন্য বাইরের দিকে একটি হাতল থাকে। আর্থ টেস্টারের তিনটি টার্মিনল থাকে । যথা :

(i) আর্থ টার্মিনাল (E)

(ii) পটেনশিয়াল টার্মিনাল (p)

(iii) কারেন্ট টার্মিনাল (C)

যে আর্থ ইলেকট্রোডের রেজিস্ট্যান্স মাপতে হবে তার সঙ্গে 'E' টার্মিনালের সংযােগ দিতে হবে । এবার দু’টি লােহার রড বা। স্পাইক নিয়ে একই লাইনে ঐ আর্থ ইলেকট্রোড থেকে যথাক্রমে 20 মিটার হতে 25 মিটার এবং 40 মিটার হতে 50 মিটার দূরত্বে মাটিতে পুঁততে হবে। আর্থ ইলেকট্রোডের নিকটবর্তী স্পাইকের সঙ্গে P টার্মিনালের এবং পরবর্তী দ্বিতীয়টির সঙ্গে C টার্মিনালের সংযােগ দিতে হবে। এবার টেস্টারের হাতলের সাহায্যে জেনারেটরকে ঘুরালে E থেকে মাটির মধ্য দিয়ে 'C'তে অল্টারনেটিং কারেন্ট (AC)। প্রবাহিত হবে।


ঐ কারেন্টকে 1 ধরলে এবং 'E' থেকে P পর্যন্ত ভােল্টেজ ঘাটতিকে (Voltage drop) V ধরলে 'E' থেকে V_ 'P' পর্যন্ত আর্থের রেজিস্টেন্সে হবে R = | এ রেজিস্টেন্সে R এর মান আর্থ টেস্টারে সরাসরি রিডিং এর মাধ্যমে পাওয়া। যাবে। এভাবে মাঝখানের স্পাইককে এ লাইনে 1.5 মিটার হতে 2 মিটার করে যথাক্রমে আর্থ ইলেকট্রোড়ের নিকটে ও দূরে সরিয়ে পুঁতে আরও দুটি রিডিং নিতে হবে । তারপর তিনটি রিডিং এর গড়মান বের করে আর্থ ইলেকট্রোডের রেজিস্ট্যান্সের মান নির্ণয় করা যায় ।

*

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post