মােটরের পােলারিটি টেস্ট - ট্রান্সফরমার টেস্ট Tests after Installation of a Tramsformer and motor

পােলারিটি টেস্ট: অ্যাভোমিটার, ম্যাগনেটিক কম্পাস বা দুটি ক্রু-ড্রাইভারের সাহায্যে মােটরের পােলারিটি টেস্ট করা যায়। নিম্নে মােটরের পােলারিটি টেস্ট করার পদ্ধতিগুলাে আলােচনা করা হলাে : 

তিনফেজ মােটরের প্রত্যেক ফেজের স্টার্টিং টার্মিনাল এবং এন্ড টার্মিনাল (End Terminal) যথাযথভাবে টার্মিনাল পােস্টে সংযােগ করা হয়েছে কিনা, তা পরীক্ষা করার জন্য এ টেস্ট করা হয়।

পােলারিটি টেস্টের জন্য সাপ্লাই হিসাবে চারটি D সাইজ ড্রাইসেল সিরিজে সংযােগ করে নিতে হয়, অথবা একটি 6v ব্যাটারি ব্যবহার করা যায়। অ্যাভােমিটারের সিলেকটর নবকে ডিসি 3v রেঞ্জে স্থাপনপূর্বক এর + ve টার্মিনাল মােটরের B অথবা V2 অর্থাৎ দ্বিতীয় ফেজের এন্ড টার্মিনালে (End Terminal) এবং নেগেটিভ টার্মিনাল মােটরের B অথবা V; অর্থাৎ দ্বিতীয় ফেজের স্টার্টিং টার্মিনালে সংযােগ করতে হবে।



ব্যাটারির পজিটিভ টার্মিনালকে মােটরের A1 এবং U1 অর্থাৎ প্রথম ফেজের স্টার্টিং টার্মিনালে সংযােগ করতে হবে। ব্যাটারির নেগেটিভ টার্মিনালে একটি তার সংযােগ করে ঐ তারের অপর প্রান্তকে মােটরের A2 অথবা U? অর্থাৎ প্রথম ফেজের এন্ড টার্মিনালে (End Terminal) স্পর্শ করাতে হবে এবং সাথে সাথে মিটারের পয়েন্টারের দিকে লক্ষ্য করতে হবে। মিটারের পয়েন্টার সম্মুখ দিকে বিক্ষেপ দিলে B1, B2, অথবা ViV% টার্মিনালে সঠিক আছে বলে ধরে নেয়া যাবে। ব্যাটারির নেগেটিভ টার্মিনালের তারকে মােটরের A2 অথবা U2 টার্মিনালের স্পর্শ হতে বিচ্ছিন্ন করতে হবে। এ সময় মিটারের পয়েন্টারকে উল্টোদিকে বিক্ষেপ দিতে দেখাে যাবে।


• ম্যাগনেটিক কম্পাস পদ্ধতিতে মােটরের পােলরিটি টেস্ট : মােটর বসানাে অবস্থায় এতে ডিসি সাপ্লাই প্রয়ােগপূর্বক কয়েলের মধ্যে কাটা কম্পাসকে এক পােল হতে অন্য পােলে ধীরে ধীরে সরানো হলে প্রতি পােলে কম্পাসের কাঁটার দিক পরিবর্তন হবে যs সংযােগ ঠিক থাকে। পক্ষান্তরে, মােটর কয়েলের লিডগুলাের সংযােগে ভুল থাকলে কম্পাস কাঁটার দিক পরিবর্তন হবে না।


দুটি ড্রাইভার পদ্ধতি দুটি ড্রাইভার পদ্ধতিতে মােটরের পােলারিটি টেস্ট: মােটরে এসি অথবা ডিসি সাপ্লাই দিয়ে চিত্রানুযায়ী যদি দু’টি ক্রু-ড্রাইভারকে পােলের সন্নিকটে ধরা যায়, তাহলে বুঝতে হবে। যে, এদের মধ্যে ভুল কানেকশন হয়েছে অর্থাৎ মােটর পােলারিটি ঠিক নেই।

প্রতি ফেজের রেজিস্ট্যান্স সমান কিনা তা টেস্ট করা ওহম মিটারের সাহায্যে মােটরের প্রতি ফেজের রেজিস্ট্যান্স।

আলাদাভাবে পরিমাপ করতে হবে। সকল সুইচ অফ করে স্টার পয়েন্ট খুলে কয়েলগুলাের দুই প্রান্তে ওহম মিটারের লিড ঠেকালে প্রতি ফেজের রেজিস্ট্যান্সের মান পাওয়া যাবে। তাদের মান পরস্পরের মধ্যে তুলনা করে বুঝা যাবে প্রতি ফেজের রেজিস্ট্যান্স সমান কিনা।


• প্রতি ফেজের কারেন্ট সমান কিনা নিশ্চিত হওয়া : একটি ক্লিপ অন মিটারের সাহায্যে মােটরের প্রতি ফেজের কারেন্ট পরিমাপ করতে হবে। এ টেস্ট মােটর চালু অবস্থায় করতে হবে। যদি ফেজগুলাের প্রতিটির কারেন্ট সমান হয় তবে মােটরটিতে কোন অসুবিধা নেই। আর যদি ফেজেগুলাের কারেন্ট ভিন্ন ভিন্ন হয় তবে মােটরটিতে সমস্যা আছে। এ সমস্যা চিহ্নিত করে দূর করতে হবে।


মােটরের ঘূর্ননের দিক সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া: মাের্টরটি কত RPM এ ঘুরছে তা জানার জন্য ঢেকোমিটারের সাহায্যে মােটরের শ্যাফটের সাথে সােজাভাবে চেপে ধরে টেকোমিটারের পাঠ নিলেই সরাসরি মােটরের ঘূর্ণনের দিক এবী। RPM জানা যাবে। স্ট্রোবােস্কোপের সাহায্যে নিক্ষেপ মােটরের শ্যাফটের দিকে আলােক করলে যদি দেখা যায় আপাত দষ্টিতে মােটরের শ্যাফট স্থির আছে তবে স্ট্রোবােস্কোপের নৰ যত RPM এ আছে মােটরের গতিবেগ তত RPM হবে।


টেম্পারেচার টেস্ট (Temperature Test) : পুরাতন মেশিন মেরামতের পরেই সাধারণত এ টেস্ট করা হয়। আর্মেচার এবং ফিল্ড কয়েল মেরামতের পর কন্টিনিউইটি, গ্রাউন্ড, শর্ট সার্কিট, ইনসুলেশন রেজিস্ট্যান্স এবং টেম্পারেচার টেস্ট করা দরকার। ক্যুটেটর বা বিয়ারিং মেরামতের পরও এদের টেম্পারেচার টেস্ট করা হয়ে থাকে। মেশিনের কোন জায়গা বেশি গরম হয়েছে কিনা, ছােট ছােট মেশিনের ক্ষেত্রে তা সাধারণত: সকলে হাত দিয়েই পরীক্ষা করে দেখা। যদি হাতের উল্টো পিঠে উত্তাপ অসহ্য মনে না হয়, তবে বুঝতে হবে গরম হলেও ঐ অংশ অতিরিক্ত গরম। হয়ে ওঠে নিই কিন্তু নিয়ম অনুসারে উত্তাপ বৃদ্ধি পরীক্ষা করতে হলে পি.ডব্লিউ, ডি (PWD) নির্দেশিত টেস্ট পদ্ধতিসমূহ। অনুসরণের মাধ্যমেই মেশিনকে পরীক্ষা করে দেখা উচিত।


এ নির্দেশে তিনটি পরীক্ষার কথা উল্লেখ রয়েছে।

(i) থার্মোমিটার পদ্ধতি (Thermometer method)

(ii) রেজিস্ট্যান্স পদ্ধতি (Resestance method)

(iii) এম্বেডেড টেম্পারেচার ডিটেক্টর পদ্ধতি (Embeded Temperature detector method). 


একটি ট্রান্সফরমার স্থাপনের পর যে সব টেস্ট করা হয় তাদের বর্ণনা Tests to be Performed after Installation of a Tramsformer- ট্রান্সফরমার স্থাপন করে চালু করার আগে কতকগুলাে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে নিতে হয়। সব ট্রান্সফরমারের ক্ষেত্রে প্রতিটি টেস্টের দরকার হয় না। ট্রান্সফরমারের রেটিং ও ভােল্টেজ এবং কাজের জায়গায় কি রকম সুযােগ-সুবিধা আছে, সে সব। বিষয় বিচার বিবেচনা করে কি কি পরীক্ষা করা উচিত সেটি ঠিক করা হয় ট্রান্সফরমার স্থাপনের পর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ। পরীক্ষা ও পরিদর্শন (Inspection) করা ও হয় ও নিম্নে পরীক্ষা নিরীক্ষা (Test) ও পরিদর্শনের (Inspcetion) তালিকা দেয়া হলাে।


টেস্ট সমূহ :

রুটিন টেস্ট (Routine test)। 

(i) ইনসুলেশন রেজিস্ট্যান্স টেস্ট

(ii) সব ট্যাপিং এর ভােল্টেজ রেশিও

(iii) শর্ট সার্কিট ইম্পিডেন্স ভােল্টেজ

(iv) লােড এবং নাে-লােড লস

(v) নাে লােড কারেন্ট

(vi) ওয়্যাইন্ডিং রেজিস্ট্যান্স পরিমাপ

(vi) ট্যাপ চেঞ্জিং এর ভেক্টর এবং ভােল্টেজ টেস্ট পরীক্ষা।


টাইপ টেস্ট (Type test)।

বিশেষ টেস্ট (Special test)

ডাই-ইলেকট্রিক টেস্ট (Dielectric test)।

(i) ইম্পালস ভােল্টেজ উইথস্ট্যান্ড টেস্ট।

(ii) ভােল্টেজের বিপরীতে পাওয়ার ফ্রিকুয়েন্সি

(iii) ট্রান্সফরমার অয়েলের ডাই-ইলেকট্রিক স্ট্রেংথ টেস্ট

(iv) উইন্ডিং রেজিস্ট্যান্স পরিমাপ

ইম্পিডেন্স ভােল্টেজ শর্ট সার্কিট ইম্পিডেন্স এবং লােড লস

কনটিনিউইটি টেস্ট (Continuity test)।

আর্থ রেজিস্ট্যান্স টেস্ট (Earth resistance test)।

আর্থ কনটিনিউইটি কন্ডাক্টরের রেজিস্ট্যান্স টেস্ট (Resistance test of Earth Continuity Conductor)।


ইনস্পেকশনসমূহ:

(i) বুখলজ রিলে

(ii) তেলের লেভেল

(iii) ফ্যান ও পাম্প

(iv) মার্শালিং বক্স

(v) সিলিকা জেলের রং ইত্যাদি।


টেস্ট ও ইনস্পেফশনসমূহের বর্ণনা দেয়া হলাে :

রুটিন টেস্ট ; একটি নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর নিয়মিতভাবে এ টেস্টগুলাে করা হয়। এ টেস্টের মাধ্যমে বিনা প্রতি এবং এককভাবে ট্রান্সফরমারের সঠিকতা পরীক্ষা করা হয়। নিয়ে এদের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেয়া হলাে।

(i) ইনসুলেশন রেজিস্ট্যান্স টেস্ট : সফরমারের হাই ভােল্টেজ সাইড ও লাে ভােল্টেজ সাইডের ওয়াইন্ডিং সাইড এর মধ্যে এবং প্রতিটি ওয়াইন্ডিং ও আর্থে মধ্যে ইনসুলেশন রেজিস্ট্যান্স পরিমাপ করতে হয়।


কন্ডাক্টর ও আর্থের মধ্যে ইনসুলেশন রেজিস্ট্যান্স টেস্ট কন্ডাক্টর ও আর্থের মধ্যে ইনসুলেশন রেজিস্ট্যান্স মাপার জনা আইসােলেটর অফ করতে হবে এবং ফিউজ খুলে রাখতে হবে। তারপর মেইন সুইচ থেকে বেরিয়ে যাবার মূখে লাইন দুটিকে একটি তার দিয়ে, শর্ট করে সেই পয়েন্টের সঙ্গে মেগারের L টার্মিনাল এবং অপর টার্মিনাল E এর সঙ্গে আর্থের সংযােগ দিতে হবে। এবার মেগারের হাতলটি জোরে জোরে একটি নির্দিষ্ট গতিতে ঘুরালে ডায়ালের উপর পয়েন্টার যে মান নির্দেশ করবে। সেই মানই কন্ডাক্টর ও আর্থের মধ্যে ইনসুলেশন রেজিস্ট্যান্সের মান।


পয়েন্টারটি যদি 0 নির্দেশ করে তবে বুঝতে হবে। কন্ডাক্টার ও আর্থের মধ্যে শট সার্কিট হয়েছে। (খ) দুটি কন্ডাক্টরের মধ্যে ইনসুলেশন রেজিস্টল টেস্ট : দুটি কন্ডাক্টরের মধ্যে ইনসুলেশন রেজিস্ট্যান্স পরিমাপ করার জন্য আইসােলেটর OFF করতে হবে। তারপর মেগারের L এবং E টার্মিনাল লাইন ও আর্থের সঙ্গে সংযােগ করতে হবে। তারপর মেগার বা ইনসুলেশন রেজিস্ট্যান্স টেস্টারের হাতল একই গতিতে জোরে জোরে ঘুরালে ডায়ালের উপর কাঁটাটি যে পাঠ দেখাবে সেই মানই হচ্ছে দুটো কন্ডাক্টরের মধ্যে ইনসুলেশন রেজিস্ট্যান্সের মান। কাঁটাটি যদি শূন্য (O) পাঠ নির্দেশ করে তবে বুঝতে হবে দুটি কন্ডাক্টরের মধ্যে শট সার্কিট হয়েছে। লাইনে শট সার্কিট থাকা বাঞ্ছনীয় নয়।


(ii) সব ট্যাপিং এর ভােল্টেজ রেশিও : ট্রান্সফরমারের সকল ট্যাপিং এর ইনপুট ও আউটপুট ভােল্টেজ পরিমাপ করে আউটপুট ও ইনপুট ভােল্টেজের অনুপাত নির্ণয় করে সকল ট্যাপিং এর ভােল্টেজ রেশিও পরীক্ষা করতে হয়।

(iii) শট সার্কিট ইম্পিডেন্স ভােল্টেজ এবং লােড লস : একটি কয়েলকে শর্ট সার্কিট করে অপর কয়েলে রেটেড ফ্রিকুয়েন্সিতে এসি ভােল্টেজ প্রয়ােগ করে ইম্পিডেন্স ভােল্টেজ এবং লােড লস পরিমাপ করতে হবে। ফুল লােডে রেটেড কারেন্টের 50% এর অধিক কারেন্ট প্রয়ােগ করে রেটেড কারেন্টের অনুপাতের বর্গ দ্বারা গুণ করে এ টেস্টের ফলাফল নির্ণয় করতে হয়। এটা আবার 75° ফারেনহাইট তাপমাত্রায় কপার লস সংশােধন করতে হবে। কপার লস রেজিস্ট্যান্সের সাথে সরাসরি সমানুপাতিক এবং অন্যান্য লসসমূহ রেজিস্ট্যান্সের উল্টানুপাতিক।


(v) নাে লােড কারেন্ট : ট্রান্সফরমারের সেকেন্ডারিতে কোন লােড না দিয়া প্রাইমারিতে ভােল্টেজ সাপ্লাই দিলে খুব কম। পরিমান কারেন্ট গ্রহণ করে একে নাে লােড কারেন্ট বলে। নাে লােড কারেন্টের দুটি উপাংশ থাকে।

ওয়ার্কিং কম্পােনেন্ট 1.

ম্যাগনেটাইজিং কম্পােনেন্ট 1.

(vi) ওয়াইভিং রেজিস্ট্যান্স পরিমাপ : ঠাণ্ডা অবস্থায় ডি.সি কারেন্ট ইকুইপমেন্টের সাহায্যে ট্রান্সফরমারের প্রতিটি উয়াইন্ডিং এর রেজিস্ট্যান্স পরিমাপ করা হয়। একই সাথে উয়াইন্ডিং রেজিস্ট্যান্স এবং তাপমাত্রা পরিমাপ করতে হয় । ড্রাই টাইপ ট্রান্সফরমারের ক্ষেত্রে 3 হতে 4 টি ভিন্ন স্থানে তাপমাত্রা পরিমাপ করতে হবে এবং গড়মান নির্ণয় করতে হবে। অয়েল কুলড় ট্রান্সফরমারের ক্ষেত্রে ট্রান্সফরমারের উপর ও নিচের তাপমাত্রা পরিমাপ করতে হবে।


(vii) ট্যাপ চেঞ্জিং এর ভেক্টর এবং ভােল্টেজ টেস্ট পরীক্ষা : ট্যাপ চেঞ্জিং এর সময় ট্রান্সফরমারের ভােল্টেজ ও ট্যাপ চেঞ্জিং এর ভােল্টেজ পরিমাপ করে তার ভেক্টর অংকন করতে হবে এবং ভােল্টেজ সমূহ সঠিক আছে কিনা তা যাচাই করতে হবে ।


টাইপ টেস্ট Type test: প্রস্তুতকারক কর্তৃক একই ধরনের ট্রান্সফরমারের মধ্যে একটি ট্রান্সফরমারকে পরীক্ষা কর বুঝায়। এ টেস্টে প্রাপ্ত ফলাফল অন্যান্য ট্রান্সফরমারের ক্ষেত্রে প্রযােজ্য বিবেচনা করা হয়। তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং ইম্পালস ভােট পরীক্ষা এ ধরনের টেস্টের অন্তর্ভুক্ত। এ ধরনের টেস্ট খুবই ব্যয়বহুল তাই টাইপ টেস্টকে গ্রহযােগ্য বিবেচনা করা হয় না। (৩) বিশেষ টেস্ট (Speeial Test) : জিরাে সিকুয়েন্স ইম্পিডেন্স শর্ট সার্কিট টেস্ট, নয়েজ লেভেল এবং নাে দে। কারেন্টর হারমােনিক পরীক্ষা (test) এ টেস্টের অন্তর্ভুক্ত।

*

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post